. .
.

আশাশুনির খেজুরডাঙ্গা প্রাইমারী স্কুলের ভবন নির্মাণে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার

রিপোর্টারের নাম: ফুলতলা প্রতিদিন
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : Nov 19, 2025 ইং
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন: স্কুল ভবন

আশাশুনির খেজুরডাঙ্গা প্রাইমারী স্কুলের ভবন নির্মাণে নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহার ;প্রকৌশলী ঠিকাদার যেন সহোদর 

সুব্রত দাশ, আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি : আশাশুনির ৩৫ নং খেঁজুর ডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তিন তলা ভবন নির্মাণে  নিন্মমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে প্রকৌশলীর কণ্ঠে ঠিকাদারের সুর শুনে হতবাক হয়েছেন স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীরা।



 স্কুলের বিষয়ে সাংবাদিকরা উপজেলা প্রকৌশলী অনিন্দ্যদেব সরকারের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঠিকাদারের সুরে কথা বলতে শুরু করেন। চিলেকোঠার ছাদ ও বিম ঢালাইয়ের ব্যাপক অনিয়মের ভিডিও ফুটেজ দেখালে প্রথমে তিনি ভিডিও গুলো এডিট করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। পরে বলেন সমস্যা একেবারে হয়নি বলবো না, তবে এগুলো না দেখলেও চলবে। দুই নম্বর ইট ব্যবহারের কথা বললে তিনি বলেন, ইটের গায়ে তো ১/২ নম্বর লেখা থাকে না, কি করে বুঝবো কোনটা ১ নম্বর কোনটা ২ নম্বর। তেমন কোন সমস্যা নাই, সব ধরলে হয়না। সবশেষে তিনি বলেন, বিম ও ছাদের যেসব রড দেখা যাচ্ছিল সেসব প্লাস্টার দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। আসলে ওই স্কুলের যাতায়াত ব্যবস্থা এতো খারাপ যে ঠিক মতো দেখভাল করা হয়ে ওঠেনি। আপনারা বলেছেন যখন বাকি কাজটুকু ভালো করে দেখে নেবো।
এর আগে প্রধান শিক্ষক বিকাশ চন্দ্র গাইন সাংবাদিকদের জানান, নিম্নমানের ইট, বালি ও  পাথর ব্যবহারের বিষয়ে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বলেও কোন ফল হয়নি। আমি স্কুলের কাজে ব্যস্ত থাকায় সবদিক খেয়াল করতে পারিনি। স্কুলের স্বার্থে কথা না বলে অজ্ঞাত কারণে সেদিন তিনি বারবার ঠিকাদার ও প্রকৌশলীদের পক্ষ নিয়ে সাংবাদিকদের সাথে তর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন।
এ ব্যাপারে ঠিকাদার আবুল কালামের সাথে কথা বলার চেষ্টা করলে তিনি সাংবাদিকদের এড়িয়ে প্রোকৌশলী অনিন্দ্যদেব সরকারের সাথে কথা বলে নিতে বলেন।
নিম্ন মানের সামগ্রী দিয়ে ১ কোটি সাড়ে ৫৭ লক্ষ টাকা ব্যয়ে তিনতলা ভবন নির্মাণের কাজ চলার খবরটি স্থানীয় ও জাতীয় পত্রিকায় প্রকাশিত হওয়ার পরেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের "ডোন্ট কেয়ার" অবস্থান নেওয়ায় সচেতন মহল হতবাক হয়েছেন। 
প্রসঙ্গত, খেজুর ডাঙ্গা স্কুলের ভবন নির্মাণের জন্য ২০২৪ সালের ১ মে থেকে কাজ শুরু করেছেন ঠিকাদার আবুল কালাম ।
২০২৫ সালের ৩১ জানুয়ারী কাজ শেষ করার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ নামেনি। এরপর ৩০ আগস্ট পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয় কিন্তু ঠিকাদারের গাফিলতির ফলে ৩ মাস অতিবাহিত হলেও কাজ শেষ নামেনি। এরপরও ভবনে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের বিষয়ে বারবার অভিযোগ উঠলেও ঠিকাদার, প্রকৌশলী ও প্রধান শিক্ষক মিলেমিশে একই সুরে কথা বলায় জনমনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
 অনিয়মকারী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সংশ্লিষ্ট অভিভাবক ও সচেতন মহল।

.
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
.
--
--