ভারী বর্ষণে যশোরের তিন ইউনিয়নের সবজি ক্ষেত জলমগ্ন, চরম দুশ্চিন্তায় কৃষক
সুমন ঘোষ যশোর
টানা ভারী বর্ষণে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি, হৈবতপুর ও কাশিমপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার সবজি ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। জলাবদ্ধতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন বাঁধাকপি ও ফুলকপির চারা উৎপাদনকারী কৃষকরা। একই সঙ্গে পানির নিচে ডুবে গেছে বিভিন্ন এলাকার ধানের বীজতলাও। এতে চলতি মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন চাষিরা।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব এলাকায় পটল, পুঁইশাক, বরবটি, উচ্ছে, ঢেঁড়স, বেগুন, কচুরমুখী ও কচুর লতিসহ নানা ধরনের সবজির আবাদ হয়েছে। আষাঢ়ের শুরু থেকে বৃষ্টিপাত কম থাকলেও বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া টানা ভারী বৃষ্টিতে অধিকাংশ ক্ষেত পানির নিচে চলে যায়। কৃষকদের আশঙ্কা, আরও কয়েকদিন বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে উঁচু জমির ফসলও ক্ষতির মুখে পড়বে।
চুড়ামনকাটির দোগাছিয়া গ্রামের কৃষক মিলন আক্তার জানান, তার এক বিঘা জমিতে চাষ করা পটলক্ষেত ইতোমধ্যে পানিতে ডুবে গেছে। দীর্ঘ সময় পানি জমে থাকলে গাছ পচে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।
বরবটি চাষি দেলোয়ার গাজী বলেন, অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে গাছের ফুল ঝরে পড়ছে। এতে ফলন কমে যাওয়ার পাশাপাশি গাছ নষ্ট হওয়ার শঙ্কাও তৈরি হয়েছে। ফলে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
এদিকে আব্দুলপুর গ্রামের চারা উৎপাদনকারী কৃষক টিটো জানান, টানা বৃষ্টিতে নতুন করে বপন করা ফুলকপি ও বাঁধাকপির বীজ নষ্ট হয়ে গেছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে অবশিষ্ট চারাও রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
কাশিমপুর গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম বলেন, মাঠজুড়ে এখন শুধু পানি আর পানি। অনেক ধানের বীজতলা সম্পূর্ণভাবে তলিয়ে রয়েছে।
স্থানীয় কৃষি বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও চুড়ামনকাটি এলাকার উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা তরুণ বিশ্বাসের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
কৃষিবিদ ইউসুফ আলী বলেন, দীর্ঘ সময় জলাবদ্ধতায় সবজি গাছের গোড়া নরম হয়ে যায়। পরে রোদ উঠলে সেগুলো দ্রুত পচে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। চলতি আষাঢ়ের এই অতি বৃষ্টিপাতের কারণে সবজি চাষিদের উল্লেখযোগ্য ক্ষতির মুখে পড়তে হতে পারে।
আবহাওয়া সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার দুপুর ২টা পর্যন্ত যশোরে ১৯০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ। এর ফলে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চলে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..