. .
.

মোবাইল ফোনে আসক্তি যেভাবে দুর্বল করে দিতে পারে সম্পর্ক

রিপোর্টারের নাম: ফুলতলা প্রতিদিন
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : Aug 14, 2026 ইং
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন: File photo

মোবাইল ফোনে আসক্তি যেভাবে দুর্বল করে দিতে পারে সম্পর্ক

সুমন ঘোষ যশোর 

বর্তমান সময়ে মোবাইল ফোন মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ। যোগাযোগ, কাজ, বিনোদন কিংবা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—সবকিছুর জন্যই ফোনের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত ফোন ব্যবহার ধীরে ধীরে ব্যক্তিগত সম্পর্কেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে সঙ্গীর সঙ্গে সময় কাটানোর সময়ও যদি ফোনই হয়ে ওঠে প্রধান মনোযোগের বিষয়, তাহলে তৈরি হতে পারে দূরত্ব ও ভুল বোঝাবুঝি।
নীরব সময়ও কাটছে ফোনে
সব সময় কথা বলতেই হবে—এমন নয়। অনেক সময় পাশাপাশি নীরবে বসে থাকাও সম্পর্কের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ। কিন্তু সেই নীরব সময় যদি নোটিফিকেশন দেখা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম স্ক্রল করা কিংবা ফোন ঘাঁটতেই কেটে যায়, তাহলে একসঙ্গে থাকার আনন্দ কমে যেতে পারে।
একই ঘরে থেকেও দুজন তখন নিজেদের আলাদা ডিজিটাল জগতে ডুবে থাকেন। এতে একে অপরের সঙ্গ উপভোগ করার ছোট ছোট সুযোগগুলো ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।
স্ক্রিন টাইম নিয়ে নিয়মিত বিরোধ
সঙ্গী যদি প্রায়ই অভিযোগ করেন, ‘তুমি সব সময় ফোন নিয়ে থাকো’, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। ফোন ব্যবহারের সময় নিয়ে নিয়মিত ঝগড়া হলে সমস্যাটি শুধু স্ক্রিন টাইমে সীমাবদ্ধ নাও থাকতে পারে।
এর পেছনে থাকতে পারে অবহেলিত হওয়ার অনুভূতি, পর্যাপ্ত সময় না পাওয়ার কষ্ট কিংবা আগের মতো সঙ্গীকে কাছে না পাওয়ার আক্ষেপ। তখন ফোনটি মূল সমস্যার চেয়ে বরং জমে থাকা হতাশা ও অভিমানের দৃশ্যমান প্রতীকে পরিণত হয়।
অপরিচিতদের জীবনে বেশি আগ্রহ
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোন তারকা কার সঙ্গে সম্পর্কে আছেন, বন্ধুরা কী পোস্ট করছেন কিংবা অনলাইনে কী ঘটছে—এসব বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ রাখা অনেকেরই অভ্যাস। কিন্তু নিজের সঙ্গী বর্তমানে কী নিয়ে ভাবছেন, কী তাকে আনন্দ দিচ্ছে, কোন বিষয় তাকে কষ্ট দিচ্ছে কিংবা কোন স্বপ্ন পূরণের অপেক্ষায় আছেন—এসব জানার সময় যদি না থাকে, তাহলে সেটি সম্পর্কের জন্য সতর্ক সংকেত হতে পারে।
প্রিয় মানুষের জীবনের চেয়ে অপরিচিত বা অনলাইন জগতের মানুষের জীবন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠলে সম্পর্কের আবেগীয় বন্ধন ধীরে ধীরে দুর্বল হতে পারে।
সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সচেতনতা
মোবাইল ফোন নিজে কোনো সম্পর্কের শত্রু নয়। সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন ফোন মানুষের কাছের মানুষের জায়গা দখল করে নেয়। তাই প্রতিদিন কিছুটা সময় ফোন দূরে রেখে সঙ্গীর সঙ্গে কথা বলা, একসঙ্গে খাবার খাওয়া, হাঁটাহাঁটি করা কিংবা শুধু পাশাপাশি বসে সময় কাটানোর অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি সুস্থ সম্পর্ক শুধু একই জায়গায় থাকার মাধ্যমে টিকে থাকে না; বরং একে অপরকে সময় দেওয়া, মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়ার মধ্য দিয়েই তৈরি হয় প্রকৃত ঘনিষ্ঠতা। তাই প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলার পাশাপাশি প্রিয় মানুষটির জন্যও নির্দিষ্ট সময় রাখা জরুরি।

.
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
.
--
--