. .
ডেস্ক রির্পোর্ট মোঃ সুমন সরদার
মানবাধিকার সুরক্ষা, মানবিক মর্যাদার সমুন্নতি, ব্যক্তি-স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠা এবং আইনের শাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে দেশে প্রথমবারের মতো চূড়ান্ত করা হয়েছে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’। নতুন এই আইনের মাধ্যমে গুমকে একটি স্বতন্ত্র, আমলযোগ্য (Cognizable), জামিন-অযোগ্য (Non-bailable) এবং আপস-অযোগ্য (Non-compoundable) গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে কঠোরভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানবাধিকার সংগঠন ও ভুক্তভোগী পরিবারগুলো গুমের বিচার ও প্রতিরোধে একটি বিশেষায়িত ও কঠোর আইনি কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিল। এই দাবির প্রেক্ষিতে প্রণীত নতুন আইনটি বাংলাদেশে আইনের শাসন ও মৌলিক মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় এক ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি কেবল অপরাধের বিচারই নিশ্চিত করবে না, বরং গুম প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় ও প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে কার্যকর প্রতিবন্ধকতা তৈরি করবে।
আইনটির অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এটি গুম হওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত সন্ধান পাওয়ার অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর আইনি ও সামাজিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। পূর্বে সুনির্দিষ্ট আইনি কাঠামোর অভাবে গুমের ঘটনাগুলোর সঠিক তদন্ত ও দায়ীদের চিহ্নিতকরণে নানা জটিলতার সৃষ্টি হতো। নতুন আইন বাস্তবায়িত হলে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিচারিক প্রক্রিয়া আরও সুসংহত ও ত্বরান্বিত হবে।
আইনটিতে কেবল অপরাধীর শাস্তির বিধানই রাখা হয়নি, বরং ভুক্তভোগী ও তাদের স্বজনদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসন নিশ্চিত করার একটি পূর্ণাঙ্গ ও সমন্বিত আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠার কথা বলা হয়েছে। এর মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো কেবল বিচারই পাবে না, বরং রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার আওতায় পুনর্গঠিত হওয়ার সুযোগ পাবে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’ সঠিকভাবে প্রয়োগ করা সম্ভব হলে দেশের সার্বিক মানবাধিকার পরিস্থিতি ইতিবাচক দিকে মোড় নেবে। একই সাথে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ডের সঙ্গে বাংলাদেশের আইনগত ব্যবস্থার সামঞ্জস্য ঘটবে, যা ভবিষ্যতে যেকোনো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা অরাষ্ট্রীয় শক্তির দ্বারা গুমের মতো অপরাধ সংঘটনে শক্তিশালী প্রতিরোধ হিসেবে কাজ করবে।