যশোরে জমি নিয়ে বিরোধ: আদালতে মামলা চলার মধ্যেই হামলা-ভাঙচুর, সিসি ক্যামেরা ভাঙার অভিযোগ
নিজস্ব প্রতিবেদক, যশোর:
যশোর শহরের পিয়ারী মোহন রোডের বেজপাড়া এলাকায় জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। আদালতে জমি সংক্রান্ত মামলা চলমান থাকার মধ্যেই ২৯ সেপ্টেম্বর জমি দখল ও প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টায় বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে হামলা, ভাঙচুর, সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা এবং জীবননাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অমিত হাসান (৩০) কোতোয়ালি মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
আদালতে আগেই হয়েছিল মামলা
আদালতের নথি অনুযায়ী, জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের জেরে অমিত হাসান যশোরের জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৪৪/১৪৫ ধারায় মামলা করেন। মামলায় এস এম শামিম (৪৫), মো. শাহিন (৪২) ও সাবিয়া বেগম (৫২)সহ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে।
মামলার নথিতে অমিত হাসান দাবি করেন, সংশ্লিষ্ট জমির একটি অংশ তিনি দলিলের মাধ্যমে মালিকানা লাভ করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখল করে আসছেন। জমিটি নিয়ে বিরোধের কারণে আদালতের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে বলেও নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
২৯ সেপ্টেম্বর হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ
ভুক্তভোগী অমিত হাসানের অভিযোগ, ২৯ সেপ্টেম্বর অভিযুক্তরা তার দখলীয় জায়গায় জোরপূর্বক প্রবেশ করে স্থান দখল ও প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করেন। তিনি এতে বাধা দিলে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
অমিত হাসান আরও জানান, এ সময় তার টিনসেডের ঘরে ভাঙচুর চালানো হয়। ঘরের দরজা-জানালা ও বিভিন্ন জিনিসপত্র ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। একই সঙ্গে ঘটনাস্থলে থাকা সিসি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়, ফলে ঘটনার গুরুত্বপূর্ণ ভিডিও ফুটেজ নষ্ট হয়ে থাকতে পারে বলে অভিযোগ তার।
আলমারি থেকে ৩ লাখ টাকা না পাওয়ার অভিযোগ
ভুক্তভোগী অমিত হাসানের দাবি, ঘটনার আগে তিনি সদ্য নেওয়া ঋণের ৩ লাখ টাকা ঘরের আলমারিতে রেখেছিলেন। কিন্তু ভাঙচুরের পর আলমারি খুলে তিনি ওই টাকা আর খুঁজে পাচ্ছেন না বলে জানান।
তিনি বলেন, টাকা কোথায় গেল সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তবে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনার পর থেকেই টাকাটি পাওয়া যাচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন অমিত হাসান।
পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে
ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে বলে জানান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও এলাকায় বিরোধকে কেন্দ্র করে মানুষের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে জানা গেছে।
অমিত হাসানের অভিযোগ, ঘটনার সময় তাকে ভয়ভীতি দেখানোর পাশাপাশি জীবননাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।
প্রভাবশালীদের সহযোগিতার অভিযোগ
ভুক্তভোগীর আরও অভিযোগ, স্থানীয় কয়েকজন ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী ব্যক্তি ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে অভিযুক্তদের সহযোগিতা করছেন। তাদের প্রভাবের কারণে তিনি দীর্ঘদিন ধরে চাপ ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
অমিত হাসান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, হামলা-ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা, নিখোঁজ ৩ লাখ টাকার বিষয়ে তদন্ত এবং নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। হামলা, ভাঙচুর ও টাকা না পাওয়ার অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হবে।
এ জাতীয় আরো খবর..