এইচএসসি-২০২৬ শুরু, যশোর বোর্ডে বেড়েছে পরীক্ষার্থী
সুমন ঘোষ যশোর
বর্তমান সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো দেশজুড়ে শুরু হয়েছে ২০২৬ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষা। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত দেশের ১১টি শিক্ষা বোর্ডে একযোগে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিনে সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোতে বাংলা প্রথমপত্র, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে আলিমের কুরআন মাজিদ এবং কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে এইচএসসি (বিএমটি) বাংলা-২ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া হয়।
এবার সারাদেশে নিয়মিত ও অনিয়মিত মিলিয়ে মোট ১২ লাখ ৭০ হাজার ৫৮৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। এর মধ্যে ছাত্র ৬ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন এবং ছাত্রী ৬ লাখ ৪৮ হাজার ৬১৪ জন। দেশের ২ হাজার ৬৯৭টি কেন্দ্রে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের অধীনে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১০ জেলার ৫৭০টি কলেজের ১ লাখ ১৭ হাজার ১৭৭ জন পরীক্ষার্থী ২৪০টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। গত বছরের তুলনায় এ বোর্ডে পরীক্ষার্থী বেড়েছে ৩৬৮ জন।
বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত ৮০ হাজার ৩৬৫ জন এবং অনিয়মিত ৩৫ হাজার ৮৫৩ জন। ছাত্রী রয়েছেন ৬০ হাজার ১৮৯ জন এবং ছাত্র ৫৬ হাজার ৯৯৮ জন। অর্থাৎ ছাত্রের তুলনায় ছাত্রী ৩ হাজার ২০১ জন বেশি।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে খুলনা জেলায় সর্বোচ্চ ২৩ হাজার ৫৪৭ জন পরীক্ষার্থী ৪৮টি কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে যশোর জেলা, যেখানে পরীক্ষার্থী ১৯ হাজার ৭৯১ জন। আর সবচেয়ে কম ৩ হাজার ৯১৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন মেহেরপুর জেলার ৮টি কেন্দ্রে।
পরীক্ষা নিয়ন্ত্রণ বিভাগ জানিয়েছে, কেন্দ্র বণ্টনে সুষমতা আনতে কয়েকটি অতিরিক্ত ও ভেন্যু কেন্দ্র বাতিল করে নতুন ১০টি কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। যদিও পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে বোর্ডের চেয়ারম্যান, পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও সচিবসহ গুরুত্বপূর্ণ পদে পরিবর্তন হওয়ায় কিছু প্রশাসনিক চাপ তৈরি হয়েছিল।
যশোর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মতিন বলেন, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। নকলমুক্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশে পরীক্ষা আয়োজন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দায়িত্বে অবহেলা করলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি কেন্দ্রে কক্ষ পরিদর্শক নিয়োগ, বেঞ্চভিত্তিক আসন বিন্যাস, প্রশ্নপত্র সংরক্ষণ ও বিতরণে কঠোর নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে। এবার প্রথমবারের মতো সব কেন্দ্রে সার্বক্ষণিক ইন্টারনেট সংযোগ ও সিসিটিভি ক্যামেরা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পরীক্ষাকেন্দ্রে কেন্দ্র সচিব ছাড়া অন্য কারও মোবাইল ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং পরীক্ষার্থীদের ইলেকট্রনিক ডিভাইস বহনেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
আন্তঃশিক্ষা বোর্ড সমন্বয় কমিটি জানিয়েছে, প্রশ্নফাঁস, গুজব বা যেকোনো ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে কঠোর নজরদারি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডে এ উপলক্ষে একটি বিশেষ কন্ট্রোল রুমও চালু রাখা হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..