. .
.

তাড়াশে হেমন্তের কার্তিকে বর্ষার বৃষ্টি, বিপাকে সরিষাচাষিরা

রিপোর্টারের নাম: ফুলতলা প্রতিদিন
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : Oct 28, 2026 ইং
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন: File photo

তাড়াশে হেমন্তের কার্তিকে বর্ষার বৃষ্টি, বিপাকে সরিষাচাষিরা

মো: সুলতান মাহমুদ,  সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:

হেমন্তের কার্তিক মাসের মাঝামাঝি সময়ে বর্ষাকালের মতো বৃষ্টি হয়েছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায়। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে বৃষ্টি হয়। অসময়ের এ বৃষ্টিতে উপজেলার রবি শস্যচাষিরা ক্ষতির আশঙ্কায় পড়েছেন। বিশেষ করে সদ্য সরিষার বীজ বপন করা কৃষকেরা বেশি দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কার্তিক মাসে সরিষাসহ বিভিন্ন রবি শস্যের আবাদ শুরু হয়েছে। অনেক কৃষক জমি প্রস্তুত করে বীজ বপন করেছেন। কেউ কেউ বীজ বপনের পাশাপাশি জমিতে সারও প্রয়োগ করেছেন। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে কোনো কোনো জমিতে পানি জমে যাওয়ায় সদ্য বপন করা বীজ, প্রয়োগ করা সার এবং ফসলের প্রাথমিক বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের মাগুড়া গ্রামের
কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, “আজ সকালে প্রায় ১৮ বিঘা জমিতে সরিষার বীজ বপন করেছি। কিন্তু দুপুরের বৃষ্টিতে কিছু জমিতে পানি জমে গেছে। জমিতে দেওয়া সারও বৃষ্টির পানিতে মিশে ধুয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে প্রতি বিঘা জমিতে প্রায় পাঁচ হাজার টাকা করে ক্ষতির মুখে পড়েছি।”

তিনি আরও জানান, সরিষা চাষের শুরুতেই এমন বৃষ্টিতে তাঁর উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। জমির পানি দ্রুত না নামলে এবং বীজের অঙ্কুরোদ্গম ব্যাহত হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

কৃষকদের আশঙ্কা, সদ্য বপন করা সরিষার জমিতে অতিরিক্ত পানি জমে থাকলে বীজের অঙ্কুরোদ্গম ও চারার স্বাভাবিক বৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এতে নতুন করে বীজ বপন, সার প্রয়োগ কিংবা জমির পরিচর্যায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করতে হতে পারে।

এদিকে হেমন্তের এ সময়ে বর্ষাকালের মতো বৃষ্টিতে স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। কৃষকেরা তাঁদের সদ্য বপন করা সরিষার বীজ ও জমির ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বলেন, “সরিষার বীজ বপনের পর অতিরিক্ত বৃষ্টি হলে জমিতে পানি জমে বীজের অঙ্কুরোদ্গম ব্যাহত হতে পারে। বিশেষ করে জমিতে দীর্ঘসময় পানি জমে থাকলে বীজ পচে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই কৃষকদের জমিতে জমে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করতে হবে। পাশাপাশি জমির অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পরিচর্যা করতে হবে। ক্ষতিগ্রস্ত জমিতে পুনরায় বীজ বপনের প্রয়োজন হলে কৃষি বিভাগের পরামর্শ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত।”

.
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
.
--
--