ফিলিস্তিনি বন্দিদের জন্য ইসরায়েলের ‘কুমির কারাগার’ পরিকল্পনা
আইবিএন রিপোর্ট: ইসরায়েলি সরকার ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিরুদ্ধে এক অভিনব ও বিতর্কিত পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। ন্যাশনাল সিকিউরিটি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের প্রস্তাব অনুসারে, কারাগারগুলোকে কুমির-ঘেরা মোট দিয়ে ঘিরে ফেলার প্রস্তুতি চলছে। এই পরিকল্পনাকে ‘কুমির কারাগার’ নামে অভিহিত করা হচ্ছে।
সম্প্রতি ইসরায়েলি সরকার নীল কুমিরের সুরক্ষা আইন শিথিল করে এর আইনি বাধা দূর করেছে। এর ফলে কেতজিওট কারাগারসহ অন্যান্য উচ্চ-নিরাপত্তা কারাগারের চারপাশে কুমির-পূর্ণ খাল বা মোট তৈরির পথ প্রশস্ত হয়েছে। বেন-গভির এই ধারণাটি গত বছরের শেষের দিকে উত্থাপন করেন এবং এটিকে ফ্লোরিডার ‘অ্যালিগেটর অ্যালকাট্রাজ’ মডেল থেকে অনুপ্রাণিত বলে উল্লেখ করেন।
ইসরায়েল প্রিজন সার্ভিস (আইপিএস) এই প্রস্তাবটি মূল্যায়ন করছে। ইতোমধ্যে কুমির খামার পরিদর্শনসহ খরচ নির্ধারণের কাজ শুরু হয়েছে। বেন-গভির দাবি করেন, এটি ফিলিস্তিনি বন্দিদের পালানোর চেষ্টা রোধ করবে এবং কারাগারের নিরাপত্তা বাড়াবে। তিনি সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেছেন যে, তার সফরের সময় বন্দিরা ভয়ে কাঁপতে থাকে।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই পরিকল্পনাকে ‘স্যাডিস্টিক বর্বরতা’ এবং মানসিক নির্যাতনের উদাহরণ বলে নিন্দা করেছে। তারা বলছে, এটি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের লঙ্ঘন। পরিবেশবিদরা কুমিরের স্বাস্থ্য, পরিবেশগত ঝুঁকি এবং খরচ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
ইসরায়েলি কারাগারে বর্তমানে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি আটক রয়েছে, যাদের মধ্যে অনেকে প্রশাসনিক আটকাদেশে রয়েছেন। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ এবং আন্তর্জাতিক সমালোচকরা এই পরিকল্পনাকে ইসরায়েলের দখলদারিত্ব এবং দমনমূলক নীতির আরেকটি প্রমাণ বলে অভিহিত করেছে।
বেন-গভিরের চরমপন্থী অবস্থানের কারণে এই ধরনের প্রস্তাব বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। সরকারের মধ্যে কেউ কেউ এটিকে বাস্তবায়নযোগ্য বললেও, অনেকে খরচ, লজিস্টিকস এবং আইনি জটিলতার কথা তুলে ধরছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..