. .
ইরান সংঘাত: ১৮ মার্কিন সেনা নিহত ও ৬২০ জনের বেশি আহত, পেন্টাগনের তথ্যে তীব্র আলোচনা
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সামরিক সংঘাতের কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হতাহতের পরিসংখ্যান নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। ইরানি গণমাধ্যম 'প্রেস টিভি'-র খবরে পেন্টাগনের সূত্র উল্লেখ করে জানানো হয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন এবং ৬২০ জনেরও বেশি সেনা আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে জর্ডান ও ইরাকে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ড্রোন ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। জর্ডানে মোতায়েনরত একাধিক মার্কিন সেনার প্রাণহানির ঘটনা নিশ্চিত করার মাধ্যমে মার্কিন সামরিক কমান্ডের পক্ষ থেকেও সংঘাতের ভয়াবহতা তুলে ধরা হয়েছিল।
তবে পেন্টাগনের পক্ষ থেকে হতাহতের তালিকায় পরিবর্তন আনাকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক অঙ্গন ও মার্কিন রাজনীতিতে নতুন বিতর্ক দানা বেঁধেছে। প্রথমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও পেন্টাগন ১৮ জন সেনা নিহতের কথা স্বীকার করলেও পেন্টাগনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে সেই সংখ্যা কমিয়ে ১৪ জন দেখানো হয়। পেন্টাগন কর্তৃপক্ষ এটিকে ওয়েবসাইটের "সাময়িক ডেটা বিভ্রাট" বলে দাবি করলেও মার্কিন সিনেটর ও সাবেক সেনা কর্মকর্তারা সঠিক তথ্য গোপন করার অভিযোগে তীব্র প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছেন। তাঁরা নিহতের সঠিক তালিকা ও ছয় শতাধিক আহত সেনার পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন।
সংঘাতের কারণে বিভিন্ন ঘাঁটিতে দায়িত্ব পালনকারী মার্কিন সেনারা মস্তিষ্কজাত আঘাত (TBI) এবং অন্যান্য শারীরিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন, যা মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলছে। আকাশপথে ও সমুদ্রসীমায় হামলা-পাল্টা হামলার কারণে পারস্য উপসাগর ও লোহিত সাগরীয় অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলও চরম ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন ও ইরানি বাহিনীর মধ্যে অব্যাহত এই উত্তেজনা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক দীর্ঘমেয়াদি ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। মার্কিন কংগ্রেসে ইতিমধ্যেই এই যুদ্ধ পরিচালনা এবং বিপুল আর্থিক ও প্রাণহানির ব্যয় নিয়ে সামরিক নেতৃত্বের কাছে জবাবদিহিতা চাওয়া হচ্ছে।
সূত্র: প্রেস টিভি (Press TV) / মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন)