. .
প্রেস টিভি সূত্রে খবর:
ফিলিস্তিনিদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা না গেলে পশ্চিম এশিয়ায় (মধ্যপ্রাচ্য) কখনো স্থায়ী শান্তি বা স্থায়িত্ব অর্জন সম্ভব নয় বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ফিলিস্তিনের প্রতিরোধ সংগঠন হামাসের নবনিযুক্ত প্রধান খলিল আল-হায়া। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, গাজায় ইসরায়েলি বাহিনীর গণহত্যা এবং আগ্রাসনই বর্তমানে সমগ্র অঞ্চলের চরম অস্থিতিশীলতার প্রধান উৎস।
হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর দায়িত্ব নেওয়ার পর এক বিবৃতিতে খলিল আল-হায়া বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণের মৌলিক অধিকার ও নিরাপত্তাকে উপহাস করে ওই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের শান্তির প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে বাধ্য। তিনি উল্লেখ করেন, গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত সামরিক হামলা ও ধ্বংসযজ্ঞ গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক মারাত্মক সংকটপূর্ণ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
খলিল আল-হায়া আরও বলেন, "যতক্ষণ না ফিলিস্তিনি জনগণ তাদের নিজস্ব ভূমিতে নিরাপদ ও স্বাধীনভাবে বসবাসের অধিকার পাচ্ছে এবং দখলদার ইসরায়েলিদের আগ্রাসন বন্ধ হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত এ অঞ্চলের অস্থিতিশীলতা কোনোভাবেই দূর হবে না।" তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে ইসরায়েলি শাসনব্যবস্থার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধে কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
বিবৃতিতে তিনি আরও উল্লেখ করেন, গাজার ওপর ইসরায়েলি দখলদারদের নৃশংস আক্রমণ কেবল ফিলিস্তিনেই সীমিত নেই, বরং এটি পুরো পশ্চিম এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলেছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যদি এই অঞ্চলে প্রকৃত স্থিতিশীলতা দেখতে চায়, তবে তাদের অবশ্যই ইসরায়েলের গণহত্যা বন্ধে চাপ সৃষ্টি করতে হবে এবং ফিলিস্তিনিদের ন্যায়সংগত অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
উল্লেখ্য, গাজা যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক চরম উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যে খলিল আল-হায়ার এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। প্রতিরোধ যোদ্ধাদের এই শীর্ষ নেতা স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা বাদ দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে যেকোনো চুক্তির চেষ্টা বাস্তবতা বিবর্জিত।