নড়াইলে পরকীয়ার জেরে গৃহবধুর আত্মহত্যা,
প্রেমিকের বিরুদ্ধে ব্লাকমেইলের অভিযোগ
নড়াইল প্রতিনিধি:
নড়াইল সদর উপজেলায় এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করে নিজ ঘরের আড়ে ঝুলিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক যুবকের বিরুদ্ধে ।
অভিযুক্ত ওই যুবকের নাম মোছা ভূইয়া (২৭ ) তিনি পাইকমারি গ্রামের হাফিজুর ভূইয়ার ছেলে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে,
নড়াইল সদর উপজেলার চন্ডিবরপুর ইউনিয়নের
পাইকমারি গ্রামের পিয়ারি বেগম। তার স্বামী বিদেশ থাকায় দুই সন্তান নিয়ে স্বামীর বাড়িতে বসবাস করতেন। স্বামী বিদেশ থাকায় একই গ্রামের মোসা ভূইয়ার সাথে প্রেমেজ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। সম্পর্কের জেরে এক সময়ে পিয়ারির সাথে আপত্তিকর ছবি তুলে রাখেন। বেকার মোসা ভূইয়া পিয়ারির নিকট হতে মাঝেমধ্যে টাকা নিয়ে নিজের হাত খরচ চালাতেন। একপর্যায়ে বেশি টাকার প্রয়োজন হলে পিয়ারির নিকট পুুনরায় ৪ লাখ টাকা দাবি করেন মোসা। দাবিকৃত টাকা না দিলে তার সাথে থাকা আপত্তিকর ছবি ফেসবুক সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দেন।এ নিয়ে কিছুদিন ধরে দুচিন্তায় দিন কাটাচ্ছিলেন গৃহবধূ পিয়ারি। হঠাৎ করে গতকাল রাতে তাকে গলায়া ফাঁস দেওয়া অবস্থা দেখে পরিবারের সদস্যরা পরে তাকে উদ্ধার করে নড়াইল জেলা হাসপাতালে আনলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
পিয়ারির মা বাকেরা বেগম কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন,"আমার মেয়ের ছবি উঠায় রাখছে তা দেহা যায় না। আমার মনি হাত বেধে,মুখ বেধে তারে মারে ফেলেছে আমার মনডা কচ্ছে তারে মেরে ফেলেছে।হতটুকের জন্য আমার মনি গালয় দড়ি দিতে পারে না।তার গলায় দাগ হয়নি। "
গৃহবধূর ভাই রোমান মোল্যা বলেন,আমার বোনের স্বামীর আপার ছোট ভাই বৌ বিপাসা তিনি এসব বিষয়ে জানেন। বিপাসা আর মোসা দুই জন মিলে আমার বড় আপার কাছে ব্লাকমেল করে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করেছে।
এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মোসা ভূইয়া পলাতক রয়েছে। তার বাড়িতে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি, তাদের ঘর তালাবদ্ধ থাকায় পরিবারের কোন সদস্যেদের পাওয়া যায়নি।
নড়াইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অজয় কুমার কুন্ডু বলেন, মরাদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরাদেহ পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে।
এ জাতীয় আরো খবর..