দারিদ্র্য জয় করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেল সূচনা, খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পরিবার
মো: সুলতান মাহমুদ, সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি :
সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার সোনাখাড়া ইউনিয়নের সোনাখাড়া গ্রামের বাসিন্দা সত্য কুমার রবিদাসের মেয়ে সূচনা রানী ২০২৫–২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পেয়েছেন। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও পড়াশোনা চালিয়ে নেওয়ার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার ও পরিবারের সদস্যদের।
জানা যায়, সূচনা রানী ২০২৫ সালের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় সোনাখাড়া ইউনিয়নের নিমগাছী ডিগ্রি কলেজ থেকে মানবিক বিভাগে জিপিএ–৫ পেয়ে উত্তীর্ণ হন। ফল প্রকাশের পর থেকেই উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে পরিবারে আলোচনা শুরু হলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতা বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সূচনা রানীর পরিবার ছোট একটি টিনের ঘরে বসবাস করেন। তার বাবা সত্য কুমার রবিদাস গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব পালন করেন এবং মা শ্যামলী রানী গৃহিণী। দুই ভাইবোনের মধ্যে সূচনা বড়। ছোট ভাই আকাশ কুমার রবিদাস সপ্তম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে বর্তমানে স্থানীয় একটি সেলুনে কাজ করছেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শৈশব থেকেই পড়াশোনায় মেধাবী সূচনা। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণিতে জিপিএ–৫ পেয়ে মেধাবৃত্তি অর্জন করেন তিনি। পরে মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগ থেকে জিপিএ–৫ লাভ করেন। কিন্তু উচ্চমাধ্যমিকে বিজ্ঞান বিভাগের কোচিংয়ের খরচ বহন করতে না পারায় মানবিক বিভাগে ভর্তি হতে বাধ্য হন। কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি সেলাই মেশিনে কাজ করে নিজের পড়াশোনার খরচের কিছু অংশ জোগাড় করতেন তিনি।
সূচনা রানী বলেন, “আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে বাইরে কোচিং করতে পারিনি। অনলাইনে প্রস্তুতি নিয়েই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য পড়াশোনা করেছি। এখন উচ্চশিক্ষা অর্জন করে মানুষের মতো মানুষ হতে চাই এবং বাবা–মায়ের কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে চাই।”
তার মা শ্যামলী রানী বলেন, “ছোটবেলা থেকেই মেয়েটি পড়ালেখায় খুব ভালো। আমরা তেমন কিছু দিতে পারিনি, তবু সে সর্বোচ্চ ফলাফল করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সুযোগ পেয়ে আমরা খুব খুশি। কিন্তু ভর্তির খরচ ও পড়াশোনা চালানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছি।”
স্থানীয় সমাজকর্মী ও লেখক উজ্জ্বল কুমার মাহাতো বলেন, “সূচনা রানী তার মেধা ও অধ্যাবসায় দিয়ে প্রমাণ করেছে যে ইচ্ছা থাকলে সব বাধা জয় করা সম্ভব। আমরা সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, এই মেধাবী শিক্ষার্থীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য।”
স্থানীয়দের মতে, প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে সূচনা রানী উচ্চশিক্ষা অর্জন করে ভবিষ্যতে দেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।