**ভারতে শিক্ষার্থীদের ‘ককরোচ’ আন্দোলন: মোদির আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান সিজিপিরদ**
**আন্তর্জাতিক ডেস্ক:**
ভারতে সম্প্রতি পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার চরম অনিয়মের প্রতিবাদে নতুন দিল্লির রাজপথে তীব্র ছাত্র আন্দোলন গড়ে উঠেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নরেন্দ্র মোদি সরকার আন্দোলনকারীদের সাথে আলোচনার আশ্বাস দিলেও তা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে আন্দোলনকারী যুব সংগঠন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজিপির)।
আন্তর্জাতিক ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ভারতে সুপ্রিম কোর্টের এক বিচারক বেকার যুবকদের কটাক্ষ করে ‘ককরোচ’ বা আরশোলা বলে মন্তব্য করার পর অভিজিৎ দীপকে নামের এক স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থীর হাত ধরে জন্ম নেয় এই ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। সামাজিক মাধ্যমে শুরু হওয়া এই আন্দোলন বর্তমানে ভারতের অন্যতম প্রধান ছাত্র-যুব গণঅভ্যুত্থানে পরিণত হয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তরে হাজার হাজার শিক্ষার্থী ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ এবং শিক্ষাব্যবস্থায় আমূল সংস্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করে আসছেন।
বিক্ষোভ দমনে দিল্লির রাজপথে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারগ্যাস নিক্ষেপ করায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তীব্র আন্দোলনের মুখে সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি শিক্ষার্থীদের স্বার্থ সুরক্ষার আশ্বাস দেন এবং প্রশ্নফাঁসকারীদের বিচারে 'ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট' গঠনের প্রতিশ্রুতি জানান। সেই সাথে সরকারের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সাথে আলোচনায় বসার এবং সমস্যা সমাধানের আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
তবে প্রধানমন্ত্রী মোদির এই প্রস্তাবকে "আইওয়াশ" বা লোকদেখানো পদক্ষেপ উল্লেখ করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে সিজিপির নেতৃত্ব। সংগঠনের মুখপাত্র ও নেতারা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পদত্যাগের মতো মূল দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত এবং আন্দোলনস্থলে এসে প্রকাশ্যে কথা না বলা পর্যন্ত সরকারের সাথে বন্ধ দরজার কোনো সংলাপে তারা বসবেন না। এই ঘটনার প্রেক্ষাপটকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বাংলাদেশের সাবেক স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের শেষ দিনগুলোর ছাত্র আন্দোলন সামাল দেওয়ার চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..