লাল-সবুজের মানচিত্র: অবিনাশী চেতনার বজ্রহুঙ্কার
স্বাধীনতার পক্ষের মানুষের কোনো 'মেয়াদ উত্তীর্ণ' হওয়ার তারিখ নেই। কালের বিবর্তনে শরীর জীর্ণ হতে পারে, কিন্তু দেশপ্রেমের আগুন কখনো নেভে না। পক্ষান্তরে, যারা এই মাটির সঙ্গে বেইমানি করেছে, সেই পরাজিত শক্তির উত্তরসূরিরাই ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হওয়ার অপেক্ষায় থাকে।
সূর্যসন্তানদের রক্তে কেনা এই মাটি
বীর মুক্তিযোদ্ধারা এদেশের আকাশ-বাতাস আর মাটির শ্রেষ্ঠ সম্পদ। তাঁরা জন্মেছেন একবারই, আর সেই একবারেই বদলে দিয়েছেন একটি জাতির ললাটলিখন। এদেশ কারো দানে পাওয়া নয়, কারো কাছে মাথা নত করে কিংবা পা চেটে অর্জিত কোনো সওদা নয়। এদেশ ত্রিশ লক্ষ শহীদের রক্ত আর দুই লক্ষ মা-বোনের সম্ভ্রমের বিনিময়ে কেনা এক পবিত্র ভূখণ্ড।
শকুনের থাবা বনাম অবিনাশী প্রতিরোধ
১৯৭৫-এর সেই কালরাত থেকে একদল শকুন আর হায়েনা এদেশের মানচিত্রকে খুবলে খাচ্ছে। যারা এই লাল-সবুজের অস্তিত্বকে প্রতিদিন ধর্ষণ করেছে, যারা এই দেশটাকে নিয়ে গেছে ধ্বংসের কিনারায়—তাদের জেনে রাখা উচিত, এই মাটি বীর প্রসূতি। যখনই সময় প্রতিকূল হয়, যখনই মা-মাটি-মাতৃকা বিপন্ন হয়, তখনই জেগে ওঠে সেই চিরায়ত বাঙালির তেজ।
"জাগো বাহে, কুন্ঠে সগাই!"
সময়ের প্রয়োজনে আবারও সেই বজ্রনিদাঘ আহ্বান আসবে। রাজপথ প্রকম্পিত হবে 'জয় বাংলা' স্লোগানে। সেদিন কোনো 'হাইব্রিড' সুবিধাবাদী নেতা বা কর্মীর স্থান হবে না। সেদিন বুক চিতিয়ে দাঁড়াবে তারাই, যারা নিজেদের ধমনীতে বাহান্ন আর একাত্তরের রক্ত বয়ে বেড়ায়।
ইতিহাসের চিরন্তন সত্য
ইতিহাস অত্যন্ত নিষ্ঠুর; সে কাউকেই ক্ষমা করে না। পৃথিবীর মানচিত্রে যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বগাঁথা ধ্রুবতারার মতো জ্বলজ্বল করবে। আমাদের রক্তকণিকায়, প্রতিটি শিরায় এবং নিঃশ্বাসে প্রবাহমান থাকবে:
১৯৫২-এর বর্ণমালা
১৯৭১-এর রণধ্বনি
মুজিবনগরের সেই শপথ
এবং সেই অমর ভরাট কণ্ঠের তর্জনী সংকেত
ইতিহাস কথা বলছে, এবং ইতিহাস কথা বলবেই। বাংলাদেশ দীর্ঘজীবী হোক।
-----মির্জা গালিব উজ্জ্বল।
এ জাতীয় আরো খবর..