প্রধানমন্ত্রীর যশোর সফর ঘিরে উৎসবের আমেজ, প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন
সুমন ঘোষ যশোর
যশোরে আসন্ন সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে উৎসবমুখর পরিবেশ। আগামী ২৭ এপ্রিল তারেক রহমান-এর এই সফরকে ঘিরে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রস্তুতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, সোমবার সকাল সোয়া ১০টায় তিনি যশোর বিমানবন্দরে অবতরণ করবেন। এরপর তিনি শার্শার উলাশীতে গিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহাসিক খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন। একই দিনে যশোর মেডিকেল কলেজে ৫০০ শয্যার একটি আধুনিক হাসপাতালের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করারও কথা রয়েছে।
এছাড়া সফরের অংশ হিসেবে তিনি ১৯২৭ সালে প্রতিষ্ঠিত ঐতিহ্যবাহী যশোর ইনস্টিটিউট পাবলিক লাইব্রেরি ও যশোর ক্লাব পরিদর্শন করবেন। বিকেল সাড়ে ৩টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রীর সফরকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (SSF)-এর একটি অগ্রবর্তী দল ইতোমধ্যে যশোরে অবস্থান নিয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও প্রয়োজনীয় সমন্বয় সভা সম্পন্ন হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানগুলোতে প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর নেতারা আশা করছেন, এই জনসভায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ঘটবে। গত কয়েকদিন ধরে জেলাজুড়ে প্রচার-প্রচারণা, মিছিল ও কর্মীসভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবিরুল হক সাবু জানান, যশোরের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে সিটি কর্পোরেশন গঠন, কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপন, সবজি সংরক্ষণের জন্য হিমাগার নির্মাণ এবং ফুলচাষ উন্নয়নে বিশেষ ইনস্টিটিউট প্রতিষ্ঠার দাবি রয়েছে। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়া-এর সময় শুরু হওয়া উন্নয়ন কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নেওয়ার প্রত্যাশা করছেন তারা।
উলাশী খাল পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধান হবে এবং কৃষিক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি প্রস্তাবিত ৫০০ শয্যার হাসপাতালটি নির্মিত হলে অঞ্চলের স্বাস্থ্যসেবার মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দের মতে, আসন্ন এই জনসভা কেবল রাজনৈতিক কর্মীদের নয়, বরং সাধারণ মানুষের মিলন মেলা।
এ জাতীয় আরো খবর..