স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের দৌরাত্ম্য, বিব্রতকর পরিস্থিতিতে রোগীরা
মোঃসাদ্দাম মিয়া
উপজেলা প্রতিনিধি (ফুলতলা)
খুলনার ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অবাধ বিচরণ ও রোগীদের প্রেসক্রিপশনের তথ্য সংগ্রহের অভিযোগে সাধারণ রোগীদের মধ্যে চরম অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে নারী রোগীরা ব্যক্তিগত ও গোপন স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
রবিবার এ সংক্রান্ত একাধিক অভিযোগের ভিত্তিতে দৈনিক ফুলতলা প্রতিদিন পত্রিকার প্রতিনিধি দল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে দেখা যায়, বহির্বিভাগে চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ শেষে রোগীরা হাসপাতালের গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় বিভিন্ন ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা তাদের ঘিরে ধরছেন। তারা রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেখতে চান, মোবাইল ফোনে ছবি তুলে রাখেন এবং রোগীর রোগ-ব্যাধি সম্পর্কে নানা প্রশ্ন করেন।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রতিদিন অসংখ্য নারী ও পুরুষ রোগী বিভিন্ন জটিল ও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সমস্যা নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। বিশেষ করে গাইনি, চর্মরোগ, মানসিক স্বাস্থ্য, ডায়াবেটিস ও অন্যান্য সংবেদনশীল রোগে আক্রান্ত রোগীদের প্রেসক্রিপশনের ছবি সংগ্রহের ফলে তাদের ব্যক্তিগত তথ্য অন্যের কাছে প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন রোগী জানান, চিকিৎসকের কক্ষ থেকে বের হওয়ার পরই ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিরা প্রেসক্রিপশন দেখতে চান এবং অনেক সময় অনুমতি ছাড়াই ছবি তুলে নেন। এতে রোগীদের গোপনীয়তা ক্ষুণ্ন হচ্ছে এবং তারা মানসিকভাবে অস্বস্তিতে ভুগছেন।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, একজন রোগীর চিকিৎসা সংক্রান্ত তথ্য সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়। হাসপাতাল চত্বরে এভাবে প্রেসক্রিপশন সংগ্রহ ও রোগীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা নৈতিকতা ও রোগীর গোপনীয়তা রক্ষার নীতিমালার পরিপন্থী।
এ বিষয়ে ফুলতলা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছাম্মদ জেসমিন আরার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সুস্পষ্ট বক্তব্য দেননি। ফলে হাসপাতাল প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
সাধারণ রোগী ও এলাকাবাসীর দাবি, হাসপাতাল চত্বরে ঔষধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের অবাধ বিচরণ নিয়ন্ত্রণ, রোগীদের ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং এ ধরনের হয়রানি বন্ধে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। রোগীরা বলছেন, সরকারি হাসপাতাল চিকিৎসাসেবার নিরাপদ স্থান হলেও সেখানে যদি ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষা না হয়, তাহলে রোগীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হবে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপের মাধ্যমে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান প্রত্যাশা করছেন ভুক্তভোগীরা।
এ জাতীয় আরো খবর..