. .
Desk report
sumon sarder
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা দিন দিন তীব্রতর হওয়ার মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইরানি সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভির আন্তর্জাতিক খবরের তথ্য অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ এই কূটনৈতিক বৈঠকে উভয় দেশের শীর্ষ কূটনীতিকরা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সামরিক উত্তেজনা, সার্বিক আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং বিশেষ করে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল নৌপথ ‘হোরমুজ প্রণালী’ ঘিরে বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত পর্যালোচনা করেছেন। এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ছিল বিশ্ব বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের এই অতি গুরুত্বপূর্ণ জলসীমায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অহেতুক সামরিক হস্তক্ষেপ ও অপব্যবহার রুখে দেওয়া।
বৈঠক চলাকালে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শক্ত অবস্থান নিয়ে জানান, হোরমুজ প্রণালী বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌ চলাচলের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। এই কৌশলগত প্রণালী কেন্দ্রিক মার্কিন প্রশাসন যে ধরনের উসকানিমূলক সামরিক উপস্থিতি বাড়াচ্ছে এবং একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তারের অপচেষ্টা চালাচ্ছে, তা আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা আইন ও গোটা অঞ্চলের স্থিতিশীলতার সরাসরি লঙ্ঘন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান কখনোই নিজস্ব জলসীমা কিংবা আন্তর্জাতিক এই গুরুত্ববহ প্রণালীতে কোনো বেআইনি মার্কিন হস্তক্ষেপ সহ্য করবে না। নিজেদের জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং বাণিজ্যিক নৌযানের নিরাপত্তা বজায় রাখতে সম্ভাব্য সকল পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এই অবস্থানের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের একপাক্ষিক নীতির তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মন্তব্য করেন, হোরমুজ প্রণালী ও তৎসংলগ্ন এলাকার নিরাপত্তা রক্ষার মূল দায়িত্ব কেবল আঞ্চলিক দেশগুলোর ওপরই বর্তায়। ওয়াশিংটনের মতো কোনো বহিরাগত শক্তির সেখানে অযাচিত সামরিক উপস্থিতি বা আধিপত্য বিস্তারের চক্রান্ত আঞ্চলিক সংকট ও বিশৃঙ্খলাকে কেবল আরও ঘনীভূত করছে। মস্কো বিশ্বাস করে যে যৌথ কূটনৈতিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমেই আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক পথগুলোকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
প্রেস টিভির প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, দুই শীর্ষ পররাষ্ট্রমন্ত্রী কেবল সামুদ্রিক নিরাপত্তা নয়, বরং বহুমাত্রিক দ্বিপাক্ষিক কৌশলগত ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করার অঙ্গীকার পুনঃব্যক্ত করেছেন। পশ্চিমা দেশগুলোর একতরফা অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা এবং কূটনৈতিক বৈষম্যের মুখে তেহরান ও মস্কোর মধ্যকার এই ঘনিষ্ঠ সামরিক ও কূটনৈতিক অংশীদারিত্ব নতুন বার্তা দিচ্ছে। উভয় পক্ষই যৌথভাবে হোরমুজ প্রণালীতে শান্তি রক্ষা এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যেকোনো আগ্রাসী ও নীতিবহির্ভূত পদক্ষেপ প্রতিহত করতে সমন্বিত কৌশল বাস্তবায়ন করতে সম্মত হয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই বৈঠকের মাধ্যমে ইরান ও রাশিয়া বিশ্বমঞ্চে বিশেষ করে ওয়াশিংটনকে একটি শক্ত আন্তর্জাতিক বার্তা পৌঁছে দিল। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালীকে মার্কিন অপব্যবহার থেকে মুক্ত রাখতে তেহরানের সাথে মস্কোর শক্ত অবস্থান গ্রহণ আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ প্রভাব ফেলবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
নিউজের সূত্র: প্রেস টিভি (Press TV)