আবারও অশান্ত ক্যাম্প ৮ই রোহিঙ্গা ক্যাম্প: গুলিবিদ্ধ শিশু, আতংকে ক্যাম্পবাসী
নিজস্ব প্রতিবেদক
: কক্সবাজারের রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প-৮ইতে বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেলের দিকে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের তথ্যমতে, বিকেল প্রায় ৫টার দিকে ক্যাম্পের বি-৪০ ও বি-৪১ ব্লকে হঠাৎ গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। এ ঘটনায় একটি শিশু গুরুতরভাবে গুলিবিদ্ধ হয়েছে। শিশুটির অবস্থা বর্তমানে সংকটাপন্ন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গুলিবিদ্ধ শিশুটি হলেন ক্যাম্প-৮ইয়ের বি-৪১ ব্লকের বাসিন্দা নুর আলম ও তাহারা দম্পতির ছেলে মো. ইউসুফ। তার বয়স প্রায় ছয় বছর। নুর আলমের পিতার নাম মো. আলম এবং তাহারার মায়ের নাম রম্ভাহার। গুরুতর আহত অবস্থায় শিশুটিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা জীবনসংকটাপন্ন বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনায় আরএ (এআরএ) ও আরসা (এআরএসএ)-এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে সংঘাত হয়ে থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। গোলাগুলির সময় আরও কয়েকজন সাধারণ বাসিন্দা আহত হয়ে থাকতে পারেন—এমন তথ্যও পাওয়া গেছে।
ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী ক্যাম্পে দিনের বেলায় প্রকাশ্যে এ ধরনের গোলাগুলির ঘটনায় সাধারণ বাসিন্দাদের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, তারা কোনো ধরনের সহিংসতা, সশস্ত্র তৎপরতা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চান না। বিশেষ করে শিশু, নারী ও অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা। সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের কাছে ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটন, গুলিবর্ষণে জড়িতদের শনাক্ত এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে। একইসঙ্গে ক্যাম্পে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, সন্দেহজনক সশস্ত্র তৎপরতার ওপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং সাধারণ বাসিন্দাদের জীবন ও সম্পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা ও অভ্যন্তরীণ সংঘাতের ঘটনা নতুন নয়। এ ধরনের ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে ক্যাম্পের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত ও অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। ঘটনার বিষয়ে আরও তথ্য জানার জন্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দ্রুত তদন্ত শুরু করা এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
এ জাতীয় আরো খবর..