গ্যাস সরবরাহ বাড়ায় কিছু কারখানায় উৎপাদন শুরু, সংকট কাটেনি
ফুলতলা ডেস্ক: টানা কয়েক সপ্তাহের তীব্র গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকটের পর দেশের কয়েকটি শিল্পাঞ্চলে পরিস্থিতির সামান্য উন্নতি হয়েছে। কোথাও গ্যাসের চাপ বাড়ায় বন্ধ কারখানায় উৎপাদন শুরু হয়েছে, আবার কোথাও প্রয়োজনীয় চাপ না থাকায় এখনও বন্ধ রয়েছে শিল্পকারখানা। ফলে সামগ্রিকভাবে শিল্প খাতে স্বাভাবিক উৎপাদন ফিরতে আরও সময় লাগবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
হবিগঞ্জের শিল্পাঞ্চলে শনিবার সকাল থেকে গ্যাস সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় কয়েকটি কারখানায় উৎপাদন স্বাভাবিক হয়েছে। এর আগে গ্যাস সংকটে জেলার বহু শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন ব্যাহত হয়েছিল। সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে হবিগঞ্জের ১৭১টি শিল্পকারখানায় সংকটের প্রভাব পড়ার কথা উঠে এসেছে।
তবে নারায়ণগঞ্জে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। গ্যাস এলেও চাপ প্রয়োজনের তুলনায় কম থাকায় ডাইং, বয়লার ও অন্যান্য শিল্পযন্ত্র চালানো সম্ভব হয়নি। ফলে বিপুলসংখ্যক কারখানা এখনও স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরতে পারেনি।
গাজীপুর, সাভার-আশুলিয়া ও নরসিংদীতেও গ্যাস সংকটের প্রভাব রয়েছে। গাজীপুরে শিল্পকারখানার বড় একটি অংশ উৎপাদন কমিয়ে বা বন্ধ রেখে চলছে। সাভার-আশুলিয়ার অনেক কারখানায় সরবরাহ কিছুটা বাড়লেও চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। নরসিংদীতে গ্যাসনির্ভর শিল্পের উৎপাদনও ব্যাপকভাবে কমেছে।
এদিকে গ্যাসের ঘাটতি সামাল দিতে কিছু শিল্পপ্রতিষ্ঠান ডিজেল, এলপিজি কিংবা পল্লী বিদ্যুতের মতো বিকল্প ব্যবস্থায় উৎপাদন চালু রাখার চেষ্টা করছে। এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। শিল্প উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, সংকট দীর্ঘ হলে উৎপাদন, রপ্তানি ও কর্মসংস্থানে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, দেশের দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম থাকায় বিভিন্ন খাতে রেশনিং করে গ্যাস সরবরাহ করতে হচ্ছে।
এ জাতীয় আরো খবর..