বৃষ্টির প্রভাব কাটিয়ে যশোরের কাঁচাবাজারে স্বস্তি, কমেছে বেশ কয়েকটি সবজির দাম
সুমন ঘোষ যশোর :
যশোর শহরের ঐতিহ্যবাহী বড়বাজারসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজারে কয়েক দিনের ব্যবধানে সবজির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় ফসলের ক্ষতি হলেও বাজারে নতুন করে সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। তবে কাঁচামরিচের বাজার এখনো অস্থির রয়েছে।
বাজার ঘুরে দেখা যায়, খুচরা পর্যায়ে মানভেদে আলু প্রতি কেজি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুন ৪০ থেকে ৫০ টাকা, মিষ্টি কুমড়া ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৩৫ থেকে ৬০ টাকা, কচুরমুখী ৫০ থেকে ৬০ টাকা, পটল ৬০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, পুঁইশাক ৭০ থেকে ৮০ টাকা এবং ডাটা শাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচকলা ও বিভিন্ন ধরনের শাকের আঁটি ১৫ থেকে ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।
বড়বাজারের এক আড়তদার জানান, সাম্প্রতিক সময়ে পাইকারি বাজারে সবজির সরবরাহ বাড়ায় দামও কমেছে। আগে যে লাউ ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি হতো, বর্তমানে তা ৪৫ থেকে ৫৫ টাকায় নেমে এসেছে। একইভাবে ক্ষীরার পাইকারি দাম ৮০-১০০ টাকা থেকে কমে ২৫ থেকে ৩০ টাকায় দাঁড়িয়েছে। উচ্ছে ও পটলের দামেও উল্লেখযোগ্য হ্রাস লক্ষ্য করা গেছে।
অন্যদিকে কাঁচামরিচের বাজারে এখনো স্বস্তি নেই। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিবৃষ্টি ও বন্যার কারণে মরিচ গাছের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গেছে। ফলে গত প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে প্রতি পোয়া (২৫০ গ্রাম) কাঁচামরিচ ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, অতিবৃষ্টিতে নিম্নাঞ্চলের অনেক ক্ষেত পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিভিন্ন সবজি নষ্ট হয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ ব্যাহত হলেও বর্তমানে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে থাকায় নতুন ফসল বাজারে আসতে শুরু করেছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে আগামী দিনগুলোতে সবজির দাম আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ক্রেতাদের মতে, কয়েক সপ্তাহ আগের তুলনায় এখন সবজির দাম কিছুটা সহনীয় পর্যায়ে এসেছে। তবে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আবারও টানা বৃষ্টি বা বৈরী আবহাওয়া দেখা দিলে কাঁচামরিচ, পটলসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দাম নতুন করে বেড়ে যেতে পারে।
এ জাতীয় আরো খবর..