. .
বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতিতেই পরিচালিত হবে দেশের পররাষ্ট্রনীতি: পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ডেস্ক রিপোর্ট মোঃ সুমন সরদার
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকে নয়, বরং সম্পূর্ণভাবে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ বা ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হবে বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। ভূ-রাজনীতির জটিল প্রেক্ষাপটে জাতীয় স্বার্থ, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়েই আন্তর্জাতিক বিশ্বের সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবে ঢাকা।
গতকাল বুধবার ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলায় অনুষ্ঠিত আসিয়ান রিজিওনাল ফোরামের (এআরএফ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক বৈঠকের ফাঁকে বিশ্বের প্রভাবশালী তিন পরাশক্তি—চীন, রাশিয়া এবং যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সাথে পৃথক দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বাংলাদেশের এই সুস্পষ্ট ও অনড় অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকগুলোতে ড. খলিলুর রহমান স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেন যে, বহির্বিশ্বের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সবসময় নিজস্ব সার্বভৌমত্ব, কূটনৈতিক ভারসাম্য এবং জনগণের কল্যাণকে অগ্রাধিকার দেয়। কোনো পরাশক্তির মধ্যকার দ্বন্দ্বে বা আঞ্চলিক অক্ষ গঠনে বাংলাদেশ অংশ নেবে না, বরং বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে সবার সাথে পারস্পরিক সুবিধার ভিত্তিতে বাণিজ্য ও সহযোগিতা জোরদার করবে।
বৈঠকে চীন, রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এই নীতিকে গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করেন। তারা বাংলাদেশের সাথে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, বিনিয়োগ, নিরাপত্তা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন খাতে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছেন। বিশেষ করে, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার সময়ে বাংলাদেশের এমন ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি বজায় রাখার পদক্ষেপকে তারা প্রশংসার সাথে মূল্যায়ন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, ম্যানিলার এই বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্মে বিশ্বনেতাদের সাথে পৃথক এসব আলোচনা বাংলাদেশ-আসিয়ান সম্পর্ক সুসংহত করার পাশাপাশি পরাশক্তিগুলোর সাথেও সুষম সম্পর্ক বজায় রাখতে বড় কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে কাজ করবে। স্বাধীন ও সর্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের মাধ্যমে আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে বেগবান করাই এই 'বাংলাদেশ ফার্স্ট' নীতির মূল লক্ষ্য।