. .
.

ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুরে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষনা ঘিরে তীব্র ক্ষোভ

রিপোর্টারের নাম: ফুলতলা প্রতিদিন
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : May 13, 2026 ইং
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন: File photo

ঝিকরগাছার গঙ্গানন্দপুরে জামায়াতের চেয়ারম্যান প্রার্থী ঘোষনা ঘিরে তীব্র ক্ষোভ

ঝিকরগাছা 
উপজেলা প্রতিনিধি :

আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে জামায়াতে ইসলামীর চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে কবির বিন সামাদের নাম ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। ঘোষণা পর থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক সমালোচনা, প্রশ্ন উঠেছে দলীয় সিদ্ধান্ত ও প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া নিয়েও।
শনিবার (০৯ মে) বিকাল ৫টায় অনুষ্ঠিত উপজেলা রুকন সম্মেলনে যশোর জেলা জামায়াতের আমির গোলাম রসুল আনুষ্ঠানিকভাবে কবির বিন সামাদের নাম ঘোষণা করেন। তবে ঘোষণার পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ স্থানীয় বিভিন্ন মহলে শুরু হয় নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিতর্কিত অতীত ও নানা সমালোচনার সঙ্গে জড়িত একজন ব্যক্তিকে চেয়ারম্যান প্রার্থী করে দলটি নিজেদের ভাবমূর্তিকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। অনেকেই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে ব্যক্তি একসময় জামায়াত-শিবিরবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, এবং পার্শবর্তী  শিমুলিয়া ইউনিয়নের আওয়ামিলীগের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মতিয়ার রহমান সরদার এর সাথে সখ্যতা রেখে এবং তাকে বিজয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ন অবদান ও রয়েছে তার  তাকে কীভাবে দলের প্রার্থী করা হলো?”বিগত আওয়ামী আমলে জামায়াত এবং শিবির কে 
চাদাবাজ বলে আখ্যা দিয়েছিল, আজ তাকেই দল চেয়ারম্যান প্রার্থী বানিয়েছে—এটি তৃণমূলের সঙ্গে সরাসরি প্রতারণা।”
এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা কটাক্ষ ছড়িয়ে পড়েছে। কেউ লিখেছেন, “যোগ্যতা নয়, তদবির আর তেলবাজিই এখন পদ পাওয়ার মূল চাবিকাঠি।” নারী কেলেঙ্কারির বিষয়ও সামনে এসেছে, আবার কেউ মন্তব্য করেছেন, “রমজানে করা থানা কমিটির প্যানেলে যার নামই ছিল না, সে হঠাৎ প্রার্থী হয় কীভাবে?”
দলীয় একাধিক নেতা-কর্মীর দাবি, গত রমজান মাসে থানা শাখা চেয়ারম্যান প্রার্থী বাছাইয়ের জন্য তিন সদস্যের একটি প্যানেল তৈরি করেছিল। সেই তালিকায় কবির বিন সামাদের নাম না থাকা সত্ত্বেও শেষ মুহূর্তে তাকে প্রার্থী ঘোষণা করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন তৃণমূলের অনেক নেতা-কর্মী।
অভিযোগ উঠেছে, জেলা আমির ও থানা আমিরের সঙ্গে ব্যক্তিগত সখ্যতার কারণেই কবির এই মনোনয়ন পেয়েছেন। তৃণমূলের ভাষ্য, “দলীয় যোগ্যতা বা গ্রহণযোগ্যতার চেয়ে ব্যক্তিগত সম্পর্কই এখানে বেশি প্রাধান্য পেয়েছে।”
এদিকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জামায়াত সমর্থক বলেন যে সিদ্ধান্ত মাঠের কর্মীদের মতামত উপেক্ষা করে নেওয়া হয় সেই সিদ্ধান্ত কখনই দলের জন্য ইতিবাচক ফল বয়ে আনেনা।
ঘোষনার পরে গঙ্গানন্দপুর ইউনিয়নে  জামায়াতের অভ্যন্তরীণ বিভাজন আরো স্পষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। এখন দেখার বিষয় তৃণমূলের এই ক্ষোভ দল কিভাবে সামাল দেয়।

.
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
.
--
--