আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগমুক্ত দিবস ২০২৬: প্লাস্টিক দূষণ রোধে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগমুক্ত দিবস উপলক্ষে পরিবেশ দূষণ রোধে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব বিকল্প গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশবিষয়ক লেখক ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ।
তিনি বলেন, প্লাস্টিক ব্যাগ কয়েক মিনিটের সুবিধা দিলেও পরিবেশে শত শত বছর টিকে থেকে মাটি, নদী, সমুদ্র ও জীববৈচিত্র্যের জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি সৃষ্টি করে। প্লাস্টিক ভেঙে মাইক্রোপ্লাস্টিকে পরিণত হয়ে খাদ্যশৃঙ্খল ও মানবদেহেও প্রবেশ করছে, যা ভবিষ্যতে বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে।
প্রবন্ধে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশে প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহৃত হচ্ছে। আইনগত নিষেধাজ্ঞা থাকলেও অবৈধ উৎপাদন, দুর্বল তদারকি এবং বিকল্প পণ্যের সীমিত ব্যবহারের কারণে প্লাস্টিকের ব্যবহার কমানো সম্ভব হচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, প্লাস্টিক ব্যাগ ড্রেন ও নর্দমা বন্ধ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে, কৃষিজমির উর্বরতা কমাচ্ছে এবং নদী-সমুদ্রের প্রাণবৈচিত্র্যকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। একই সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিবেশ সংরক্ষণে রাষ্ট্রকে প্রতিবছর বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে।
ডা. মাজেদ পাট, কাপড়, কাগজসহ পুনঃব্যবহারযোগ্য ব্যাগের উৎপাদন ও ব্যবহার বাড়ানোর আহ্বান জানান। তিনি উৎস পর্যায়ে বর্জ্য পৃথকীকরণ, আধুনিক রিসাইক্লিং ব্যবস্থা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ এবং কঠোরভাবে আইন বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
এছাড়া গণমাধ্যম, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, শিল্পপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসায়ী ও সাধারণ নাগরিকদের সম্মিলিত উদ্যোগের মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ মোকাবিলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক প্লাস্টিক ব্যাগমুক্ত দিবস কেবল আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং পরিবেশবান্ধব জীবনধারা গড়ে তোলার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ।
তিনি বলেন, পুনঃব্যবহারযোগ্য ব্যাগের ব্যবহার বৃদ্ধি, কার্যকর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, জনসচেতনতা এবং কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে একটি পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।
এ জাতীয় আরো খবর..