. .
.

তাড়াশে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এডিপির ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

রিপোর্টারের নাম: ফুলতলা প্রতিদিন
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : Nov 8, 2026 ইং
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন: File photo

তাড়াশে প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এডিপির ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

মো. সুলতান মাহমুদ, সিরাজগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে কাজ না করেই বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) বরাদ্দ থেকে ৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ (এলএসডি) প্রতিরোধে ভ্যাকসিন সরবরাহ প্রকল্পে অনিয়ম, গোপনে কাজ দেখানো এবং ভুয়া মাস্টাররোল তৈরির অভিযোগ করেছেন স্থানীয় খামারিরা।

প্রকৌশলীর কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মাধ্যমে ল্যাম্পি ভ্যাকসিন সরবরাহের একটি প্রকল্প নেওয়া হয়। অভিযোগ রয়েছে, উপজেলায় সরকারি নিবন্ধিত প্রায় দুই শতাধিক খামারি থাকা সত্ত্বেও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম নিজ এলাকা রায়গঞ্জ উপজেলার এক আত্মীয়ের প্রতিষ্ঠান মেসার্স তানজিলা টেকনোলজির লাইসেন্সের নামে কাজ দেখিয়ে এডিপি তহবিল থেকে ৩ লাখ টাকা ছাড় করান।

খামারিদের অভিযোগ, এডিপির বরাদ্দের বিপরীতে কোনো ভ্যাকসিন সরবরাহ করা হয়নি। পরবর্তীতে সরকারি বরাদ্দের এলএসডি ভ্যাকসিন দিয়ে হাতেগোনা কয়েকজন খামারিকে নিয়ে ক্যাম্পেইন করা হয়। পাশাপাশি ভ্যাকসিন বিতরণের নামে ভুয়া মাস্টাররোল তৈরি করে তা গোপন রাখা হয়েছে। প্রকৃত খামারিদের অনেকেই এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে অভিযোগ করেছেন।

গোলাম মোস্তফাসহ একাধিক খামারি অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গোপনে টেন্ডার প্রক্রিয়া দেখিয়ে টাকা আত্মসাৎ করেছেন। কোনো ধরনের ভ্যাকসিন সরবরাহ না করেই প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। অন্যদিকে ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে খামারিদের কাছ থেকে ২৫০ টাকা করে নিয়ে সরকারি স্টিকারযুক্ত এলএসডি ভ্যাকসিন বিতরণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

এ বিষয়ে তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশলী ফজলুল হক জানান, ঠিকাদার মালামাল সরবরাহ করেছেন কি না, তা যাচাইয়ের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে বলা হয়। মালামাল বুঝে পাওয়ার প্রত্যয়ন পাওয়ার পর বিল ছাড় করা হয়। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা যদি কারও সঙ্গে যোগসাজশ করে কোনো অনিয়ম করে থাকেন, তাহলে এর দায়ভার তাঁকেই নিতে হবে।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুসরাত জাহান বলেন, “টাকা আত্মসাতের অভিযোগ খতিয়ে দেখা হবে। অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. শরিফুল ইসলাম প্রতিবেদককে বলেন, “আমরা একই আসনের মানুষ। এসব বিষয়ে কিছু লেখার দরকার নেই।”

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পূর্ণাঙ্গ তদন্ত এবং প্রকল্পের বরাদ্দ, ভ্যাকসিন সরবরাহ, বিতরণ তালিকা ও বিল-ভাউচার যাচাইয়ের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় খামারিরা।

.
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
.
--
--