যশোরে সরকারি খাস জমি উদ্ধারে উচ্ছেদ অভিযান, গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শতাধিক অবৈধ স্থাপনা
সুমন ঘোষ যশোর
যশোরে সরকারি খাস জমি উদ্ধার এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করেছে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ। রবিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত পরিচালিত অভিযানে আওয়ামী লীগের দুটি আঞ্চলিক কার্যালয়সহ শতাধিক অবৈধ স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী সোমবার দ্বিতীয় দফায় আবারও অভিযান চালানো হবে।
গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, অভিযানের শুরু হয় শহরের বাবলাতলা এলাকা থেকে। সেখানে সরকারি খাস জমির ওপর নির্মিত একটি বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। পরে উচ্ছেদকারী দল গাবতলা মোড়ে গিয়ে রাস্তার পাশের কয়েকটি অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে। এরপর বি-ব্লক বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে রাস্তার পাশে থাকা আওয়ামী লীগের একটি আঞ্চলিক কার্যালয় ভেঙে দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সি-ব্লক এলাকায় সরকারি জমিতে নির্মিত দুটি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। একইসঙ্গে উপশহর পার্কের সামনে অবস্থিত আওয়ামী লীগের আরও একটি আঞ্চলিক কার্যালয় এবং পাশের একটি মুদি দোকান উচ্ছেদ করা হয়।
অভিযানের শেষদিকে পার্কসংলগ্ন আমতলা বস্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়। সেখানে অবৈধভাবে গড়ে ওঠা প্রায় অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি উচ্ছেদ করা হয়। এছাড়া বস্তির ভেতরে স্থাপিত দুটি ভিক্সল কারখানাও ভেঙে ফেলা হয়েছে।
অভিযান চলাকালে এলাকায় উত্তেজনা দেখা দিলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখেন। স্থানীয়দের অনেকে অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালীরা সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করে আসছিলেন। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সরকারি জমি উদ্ধারে এ ধরনের অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালনা করা হবে।
অভিযানে নেতৃত্ব দেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের খুলনা বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জিয়াউর রহমান। তিনি বলেন, বারবার মাইকিং ও সতর্ক করার পরও অবৈধ দখলদাররা জায়গা ছাড়েননি। নিজ উদ্যোগে সরে যেতে বলা হলেও নানা অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করা হচ্ছিল। বাধ্য হয়েই উচ্ছেদ অভিযানে নামতে হয়েছে।
তিনি আরও জানান, দুই দিনব্যাপী এই অভিযানে প্রায় ৫ একর সরকারি খাস জমি উদ্ধার করা হবে, যার বর্তমান বাজারমূল্য আনুমানিক ৫০ কোটি টাকা।
এসময় উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ যশোরের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমাদুল ইসলাম তুহিন, উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আশিক আহম্মেদ সাকিব এবং উপসহকারী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া।
তবে অভিযানের সময় ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকজন বাসিন্দা অভিযোগ করেন, তাদের কোনো পূর্ব নোটিশ ছাড়াই উচ্ছেদ করা হয়েছে। এছাড়া কেউ কেউ দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের কিছু অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে সেখানে বসবাসের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। হঠাৎ উচ্ছেদ অভিযানের ফলে শতাধিক পরিবার মানবেতর পরিস্থিতিতে পড়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
এ জাতীয় আরো খবর..