আজ কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী
সুমন ঘোষ
নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলা সাহিত্যের কালজয়ী কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের ১৫০তম জন্মবার্ষিকী আজ। বাংলা কথাসাহিত্যে সাধারণ মানুষের জীবন, দুঃখ-বেদনা, প্রেম, সামাজিক বৈষম্য ও মানবিক টানাপোড়েনকে অসাধারণ দক্ষতায় তুলে ধরে তিনি পাঠকের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নিয়েছেন।
১৮৭৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর হুগলি জেলার দেবানন্দপুরে জন্মগ্রহণ করেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। সাহিত্যজীবনে তিনি এমন এক স্বতন্ত্র ভাষাশৈলী গড়ে তোলেন, যা সহজ-সরল অথচ গভীর মানবিক অনুভূতিতে সমৃদ্ধ। তাঁর লেখায় সমাজের প্রান্তিক ও অবহেলিত মানুষের জীবনসংগ্রাম বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
‘দেবদাস’, ‘শ্রীকান্ত’, ‘পথের দাবী’, ‘চরিত্রহীন’, ‘দত্তা’, ‘গৃহদাহ’, ‘পরিণীতা’সহ অসংখ্য কালজয়ী সৃষ্টি বাংলা সাহিত্যে তাঁকে অমর করে রেখেছে। তাঁর উপন্যাস ও গল্প শুধু বাংলা ভাষাভাষী পাঠকের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকেনি; বিভিন্ন ভাষায় অনূদিত হয়ে ভারতীয় উপমহাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের পাঠকের কাছেও পৌঁছেছে।
নারীর অধিকার, সামাজিক কুসংস্কার, শ্রেণিবৈষম্য ও মানুষের প্রতি মানুষের দায়বদ্ধতার মতো বিষয় তাঁর সাহিত্যে শক্তিশালীভাবে উঠে এসেছে। বিশেষ করে নারীর জীবন ও সামাজিক অবস্থানকে তিনি যে সংবেদনশীলতা ও সাহসের সঙ্গে তুলে ধরেছেন, তা বাংলা সাহিত্যে তাঁকে স্বতন্ত্র মর্যাদা দিয়েছে।
শরৎচন্দ্রের সাহিত্য আজও পাঠকের কাছে সমান প্রাসঙ্গিক। সময় বদলেছে, সমাজের কাঠামো বদলেছে; কিন্তু তাঁর সৃষ্ট চরিত্রগুলোর আবেগ, সংকট, ভালোবাসা ও জীবনসংগ্রাম এখনো মানুষের সঙ্গে গভীরভাবে সংযোগ তৈরি করে।
১৫০তম জন্মবার্ষিকীতে তাই নতুন করে স্মরণ করা হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের এই অমর কথাশিল্পীকে। তাঁর সাহিত্যকর্ম প্রজন্মের পর প্রজন্মকে মানবিকতা, সমাজসচেতনতা ও জীবনকে গভীরভাবে দেখার শিক্ষা দিয়ে চলেছে।