. .
ডেস্ক রির্পোট মোঃ সুমন সরদার
করোনা পরীক্ষার প্রায় আড়াই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত (সাসপেন্ডেড) এক মেডিকেল টেকনোলজিস্টকে সরকারি হাসপাতালে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করতে দেখা গেছে—এমন অভিযোগ ঘিরে নতুন করে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রশাসন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২১ সালে খুলনা ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষার অর্থ আত্মসাতের প্রধান অভিযুক্ত মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রকাশ কুমার দাশ বর্তমানে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগে নিয়মিত কাজ করছেন। এ সংক্রান্ত বেশ কিছু ভিডিও ফুটেজ, কল রেকর্ড এবং হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বক্তব্য সংবাদমাধ্যমের হাতে এসেছে।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে খুলনা জেনারেল হাসপাতালে করোনা পরীক্ষার ফি বাবদ সংগৃহীত প্রায় ২ কোটি ৫৮ লাখ টাকার হিসাব গরমিলের অভিযোগ ওঠে প্রকাশ কুমার দাশের বিরুদ্ধে। সে সময় তৎকালীন সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয় এবং বিষয়টি নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে এই দুর্নীতির ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ তাকে বিভাগীয় পদ থেকে বরখাস্ত বা সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়।
দীর্ঘদিন আড়ালে থাকার পর একজন বিতর্কিত ও প্রশাসনিকভাবে অভিযুক্ত কর্মকর্তার এভাবে সরকারি হাসপাতালের সংবেদনশীল বিভাগে দায়িত্ব পালন নিয়ে সাধারণ সেবাগ্রহীতা ও সংশ্লিষ্টদের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, বরখাস্তকৃত একজন কর্মকর্তা কীভাবে সরকারি একটি বিশেষায়িত হাসপাতালের ফার্মেসি বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োজিত থাকেন এবং এর পেছনে কার ছত্রছায়া রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে খুলনা বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রশাসন অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে। তাদের দাবি, প্রকাশিত তথ্য ও অভিযোগ সত্য নয়।
যদিও সরেজমিনে পাওয়া প্রমাণ ও হাসপাতাল কর্মীদের বক্তব্য প্রশাসনিক দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। সার্বিক পরিস্থিতিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দায়িত্বশীলতা এবং স্বচ্ছতা নিয়ে মারাত্মক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্র: নিজস্ব প্রতিবেদন ও অনুসন্ধানী তথ্য (খুলনা)