. .
ডেস্ক রিপোর্ট :মোঃ সুমন সরদার
নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের তীব্র প্রতিবাদ ও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, স্পর্শকাতর ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে চিহ্নিত দলীয় ব্যক্তিত্বের নিয়োগ দেশের আগামী অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশের জন্য চরম হুমকি এবং জনগণের ভোটাধিকারের প্রতি এক ধরনের প্রতারণা।
সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব পদে এক বছরের চুক্তিতে মো. সামসুল আলমকে নিয়োগ প্রদান করা হয়। এই নিয়োগের প্রেক্ষিতে এক যৌথ প্রতিবাদ বিবৃতিতে জামায়াত সাধারণ সম্পাদক এ কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা অবসর গ্রহণের পর সরাসরি একটি নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন এবং দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। এমন একজন প্রত্যক্ষ রাজনীতিক ও বিতর্কিত ব্যক্তিত্বকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল প্রতিষ্ঠানে ফিরিয়ে আনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনা ও সার্বিক প্রশাসনিক সমন্বয়ে নির্বাচন কমিশনের অতিরিক্ত সচিবের প্রত্যক্ষ ও কার্যকর ভূমিকা থাকে। এমন একটি দায়িত্বশীল পদে নিরপেক্ষতা ও সর্বজনগ্রাহ্যতার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম। কিন্তু দলীয় অনুগত ব্যক্তিকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে নির্বাচন কমিশনকে পুনরায় বিশেষ কোনো রাজনৈতিক দলের আজ্ঞাবহ প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের চক্রান্ত চালানো হচ্ছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল অবিলম্বে বিতর্কিত এই নিয়োগ আদেশ বাতিলের জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে দেশের সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার নিশ্চিতকরণ এবং অবাধ, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে নির্বাচন কমিশনসহ রাষ্ট্রীয় সকল সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে দলীয় পরিচয়মুক্ত, সর্বজনগ্রাহ্য ও নিরপেক্ষ ব্যক্তিদের নিয়োগ নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।