. .
.

নদী খননের মাটি অপসারণে স্বস্তি ফিরেছে ডুমুরিয়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পে

রিপোর্টারের নাম: ফুলতলা প্রতিদিন
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : Jun 18, 2026 ইং
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন: File photo


নদী খননের মাটি অপসারণে স্বস্তি ফিরেছে ডুমুরিয়ার আশ্রয়ণ প্রকল্পে

জেলা প্রতিনিধি, খুলনা

নদী খননের মাটি অপরিকল্পিতভাবে ফেলার কারণে খুলনার ডুমুরিয়ার কয়েকটি আশ্রয়ণ প্রকল্পে সৃষ্ট দুর্ভোগ কাটতে শুরু করেছে। এতে স্বস্তি ফিরেছে প্রকল্পের বাসিন্দাদের মধ্যে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) ডুমুরিয়ার একাধিক আশ্রয়ণ প্রকল্প ঘুরে দেখা যায়, প্রকল্প পরিচালক ও স্থানীয় প্রশাসনের টানা তিন দিনের উদ্যোগে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরবাড়ির আশপাশে থাকা মাটির স্তূপ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। গত রবিবার (১৪ জুন) থেকে মাটি অপসারনের কাজ শুরু করে প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

উপজেলার চুকনগর, কাঁঠালতলা ও খর্নিয়া এলাকার সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাশ দিয়ে প্রবাহিত ভদ্রা নদীর পুনঃখননকাজ চলাকালে নদীর মাটি প্রকল্পসংলগ্ন এলাকায় ফেলা হয়। এতে মাটির বিশাল স্তুপ তৈরি হয়ে বৃষ্টির পানিতে তা গড়িয়ে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের ওপর এসে পড়ে। অনেক বাসিন্দা ঘরে ফাটল দেখা দেওয়া, চলাচলের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়া এমনকি টিউবওয়েল ও টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ করেছিলেন।

এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রকল্প পরিচালক ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে দ্রুত মাটি অপসারণের কাজ শুরু করা হয়। টানা তিন দিনের চেষ্টায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরগুলোর গা ঘেঁষে থাকা মাটি সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং চলাচলের পথও সচল করা হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত কয়েকদিন ঘর ধসে পড়ার আশঙ্কায় দিন কাটাচ্ছিলেন তারা। বর্তমানে ঘরের আশপাশের মাটি সরিয়ে নেওয়ায় পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে যেসব ঘরে ফাটল দেখা দিয়েছে সেগুলোর সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে যশোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ কুমার ব্যানার্জী বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পসংলগ্ন এলাকায় নদী খননের মাটি জমে যাওয়ার বিষয়টি আমাদের নজরে আসার পর প্রকল্প কর্তৃপক্ষ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে তা অপসারণ করা হয়। গত তিন দিনের প্রচেষ্টায় ঘরবাড়ির আশপাশে থাকা সমস্ত মাটি সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং বাসিন্দাদের চলাচলের স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে নদী খননের মাটি সংরক্ষণ ও অপসারণের ক্ষেত্রে যাতে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে আরও সতর্কতা অবলম্বন করা হবে বলে জানান তিনি।

প্রকল্প পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মামুন উর রশিদ বলেন, ঠিকাদারের ভুলের কারণে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। বিষয়টি জানার পরপরই আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করি, তিন দিন ধরে মাটি অপসারনের পর এখন সব জায়গা স্বাভাবিক আছে। ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে এই পুনঃখনন কার্যক্রম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই প্রকল্প বাস্তবায়নের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণের স্বার্থ ও নিরাপত্তার বিষয়টিও সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।


.
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
.
--
--