যশোরে পারিবারিক কলহের জেরে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, স্বামী আটক
স্টাফ রিপোর্টার
মোঃ নুরুজ্জামান
যশোর সদর উপজেলার শানতলা গ্রামে শাহানারা খাতুন নামে এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় তাঁর স্বামী আতিয়ার রহমানের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ভোরে এ ঘটনা ঘটে। পারিবারিক কলহ, পরস্পরের প্রতি সন্দেহ এবং স্বামীর মাদকাসক্তিকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ করেছেন নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা।
নিহত শাহানারা খাতুন যশোর সদর উপজেলার শানতলা এলাকার বাসিন্দা আতিয়ার রহমানের স্ত্রী। তাঁর বয়স নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
দীর্ঘদিনের পারিবারিক বিরোধ
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আতিয়ার রহমান ও শাহানারা খাতুনের দাম্পত্য জীবনে দীর্ঘদিন ধরে নানা বিষয় নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিশেষ করে পরস্পরের প্রতি সন্দেহ এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে প্রায়ই কথা-কাটাকাটি হতো।
পারিবারিক সূত্রের বরাতে প্রকাশিত কয়েকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে পারস্পরিক সন্দেহের জেরে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। পরে প্রায় ছয় মাস পর আবারও তাঁরা একসঙ্গে সংসার শুরু করেন। তবে পুনরায় সংসার শুরু করার পরও তাঁদের মধ্যে সন্দেহ ও মনোমালিন্য অব্যাহত ছিল বলে জানা গেছে।
এদিকে নিহতের স্বজন ও স্থানীয়দের অভিযোগ, আতিয়ার রহমান মাদকাসক্ত ছিলেন। তাঁর মাদক সেবনকে কেন্দ্র করেও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ সৃষ্টি হতো। এসব পারিবারিক বিরোধই শেষ পর্যন্ত মর্মান্তিক ঘটনার দিকে গড়িয়েছে বলে অভিযোগ করছেন তাঁরা।
রাতের কথা-কাটাকাটি, ভোরে গৃহবধূর মৃত্যু
প্রকাশিত সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তীব্র কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নিহতের ছেলে রায়হানের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর বাবা ক্ষিপ্ত হয়ে মাকে মারধর করেন এবং পরে গামছা দিয়ে শ্বাসরোধ করেন।
শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে।
শরীরে আঘাতের চিহ্ন, চিকিৎসকের বক্তব্য
যশোর জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাজীব রয় চৌধুরীর বরাত দিয়ে ইউনাইটেড নিউজ অব বাংলাদেশ (ইউএনবি) ও সুবর্ণভূমির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শাহানারাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছে। তাঁর শরীরেও আঘাতের চিহ্ন ছিল।
পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য যশোর জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানা যাবে।
অভিযুক্ত স্বামী আটক, পুলিশের তদন্ত চলছে
ঘটনার পর যশোর কোতোয়ালি থানা-পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত আতিয়ার রহমানকে আটক করে। যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কবির হোসেনের বরাত দিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এদিকে NPB News-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত আতিয়ার রহমান হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তবে এ বিষয়ে পুলিশের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য ও আদালত-সংশ্লিষ্ট তথ্যের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
একজন গৃহবধূর এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে এলাকায় শোক ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। দুই সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বিগ্ন স্বজনেরা। তাঁরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশি তদন্ত, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন এবং পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটিত হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
এ জাতীয় আরো খবর..