একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি আবেদন শুরু ২ সেপ্টেম্বর, ক্লাস শুরু হতে পারে ২৩ সেপ্টেম্বর
সুমন ঘোষ নিজস্ব প্রতিনিধি
এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রমের জন্য আগামী ২ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইন আবেদন গ্রহণ শুরু হতে পারে। শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তাবিত সময়সূচি অনুযায়ী, আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভর্তি কার্যক্রম চলবে এবং ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে নতুন শিক্ষাবর্ষের ক্লাস শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শিক্ষার্থীদের ভর্তি আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। তবে যেসব শিক্ষার্থী ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছে এবং পরবর্তীতে তাদের ফল পরিবর্তন হবে, তাদের জন্য পুনরায় আবেদন করার সুযোগ রাখা হচ্ছে। প্রস্তাবিত সূচি অনুযায়ী, পুনর্নিরীক্ষণের ফল ১০ সেপ্টেম্বর প্রকাশ করা হতে পারে। ফল পরিবর্তিত শিক্ষার্থীরা ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নতুন করে আবেদন করতে পারবে।
এদিকে, নির্ধারিত প্রক্রিয়ায় কোনো শিক্ষার্থী পছন্দের কলেজ বা মাদরাসায় ভর্তির সুযোগ না পেলে কিংবা নির্ধারিত সময়ে আবেদন করতে ব্যর্থ হলে পরবর্তী পর্যায়ে তাদের জন্যও বিশেষ আবেদন সুবিধা রাখা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
দেশের অধিকাংশ কলেজ ও মাদরাসায় কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইন ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা করে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় পরিচালিত এই ব্যবস্থার আওতায় শিক্ষার্থীরা অনলাইনের মাধ্যমে পছন্দের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আবেদন করতে পারে। তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ড এবং রাজধানীর কয়েকটি স্বতন্ত্র কলেজ এই সমন্বিত ভর্তি পদ্ধতির বাইরে রয়েছে।
চলতি বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ব্যাপক সংখ্যক আবেদন জমা পড়েছে। সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চার লাখের বেশি পরীক্ষার্থী প্রায় ১৩ লাখ আবেদন করেছে। এর মধ্যে তত্ত্বীয় পরীক্ষার উত্তরপত্র পুনর্নিরীক্ষণের জন্য ১০ লাখ ৫৬ হাজারের বেশি এবং ব্যবহারিক পরীক্ষার খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য ২ লাখ ৩১ হাজারের বেশি আবেদন করা হয়েছে।
এবারের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৭ জন উত্তীর্ণ হয়েছে। গড় পাসের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ, যা গত বছরের ৬৮ দশমিক ৪৫ শতাংশের তুলনায় কম। একইভাবে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে। চলতি বছর ১ লাখ ১৬ হাজার ৬৭৬ জন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে, যেখানে গত বছর এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৯ হাজার ৩২।
তবে শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তাবিত ভর্তি সূচি এখনও চূড়ান্ত হয়নি। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের পর সময়সূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
এ জাতীয় আরো খবর..