. .
প্রেমের পর পালিয়ে কলেজ ছাত্রীর বিয়ে অতপর অপহরণ মামলায় কারাগারে।
মোসাদ্দেকুর রহমান সাজু, ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি:
নীলফামারীর ডোমারে প্রেমের সম্পর্কের পর পালিয়ে বিয়ে করা এক কলেজ শিক্ষার্থীর স্বামী এখন কারাগারে। মেয়ের পরিবার নবদম্পতির বিয়ে মেনে না নেওয়ায় শেষ পর্যন্ত মামলার জালে জড়িয়ে জেলে যেতে হয়েছে যুবক সেতুকে।
ঘটনাটি ঘটেছে ডোমার উপজেলার ৬নং পাঙ্গা মটকপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ মটুকপুর পাটোয়ারী পাড়া এলাকায়। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের মৃত এনামুল হকের মেয়ে উর্মি ও একই এলাকার সাজু ইসলামের ছেলে সেতু দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্কে ছিলেন।
পরিবারের অমতে তারা গত ৮ অক্টোবর পঞ্চগড়ে ৩ লক্ষ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেন। তবে উর্মির পরিবার বিষয়টি মেনে নেয়নি। মেয়েকে উদ্ধারের জন্য তারা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
পুলিশ তিন দিন পর পঞ্চগড়ের আটোয়ারী থেকে নবদম্পতিকে উদ্ধার করে ডোমার থানায় নিয়ে আসে। এরপর মেয়ের পরিবার উর্মিকে নিজেদের কাছে নিয়ে চাপ প্রয়োগ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে উর্মির স্বামী সেতুসহ তিনজনের নামে অপহরণ মামলা দায়ের করেন তারা।
ডোমার থানা পুলিশ মামলা দায়েরের পর আটক সেতুকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়। আদালত সেতুর জামিন না মঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বোড়াগাড়ী ব্রিজ সংলগ্ন ব্লু স্টার স্কুলের সামনে থেকে উর্মিকে অপহরণ করা হয়। তবে স্থানীয় সূত্র বলছে, ঘটনাটি ভিত্তিহীন।
স্কুলের ফল বিক্রেতা গোলাম মোস্তফা জানান,
“আমার দোকান সকাল থেকে রাত পর্যন্ত খোলা থাকে, কিন্তু এমন কিছু দেখিনি।”
ব্লু স্টার স্কুলের প্রধান শিক্ষক সুজিত রায় বলেন,
“আমাদের স্কুলের সামনে কোনো অপহরণের ঘটনা ঘটেনি, কারো কাছ থেকেও শুনিনি।”
এলাকার দোকানদার স্বপন ইসলামও জানান,
“আমাদের এলাকায় এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি, এমনকি সিসি ক্যামেরাতেও কিছু দেখা যায়নি।”
অপহরণ মামলার বাদী ও উর্মির চাচা রফিকুল ইসলাম বলেন,
“অপহরণের বিষয়ে আমরা এখন কিছু বলব না, আদালতেই সব জানাব।”
তদন্ত কর্মকর্তা এসআই কাজল রায় বলেন,
“সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে ছেলে-মেয়েকে উদ্ধার করা হয়। মেয়েটি থানায় এসে স্বীকারোক্তি দিয়েছে, তাকে স্কুলের সামনে থেকে অপহরণ করা হয়েছিল বলে। বর্তমানে মামলা তদন্তাধীন রয়েছে।”
এই ঘটনাকে ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।