. .
.

মস্কোয় রাশিয়া-বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক:

রিপোর্টারের নাম: ফুলতলা প্রতিদিন
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : Jun 9, 2026 ইং
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন: File photo

মস্কোয় রাশিয়া-বাংলাদেশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৈঠক: ব্রিকস ও এসসিও-এর পূর্ণ সদস্যপদ চাইলেন ড. খলিলুর রহমান, ল্যাভরভের সাড়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ৮ জুন ২০২৬, মস্কোতে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এটি ড. খলিলুর রহমানের তিন দিনের (৭-৯ জুন) সরকারি সফরের মূল অংশ, যা ল্যাভরভের আমন্ত্রণে হয়েছে। এটি তাঁর পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে রাশিয়ায় প্রথম সফর এবং সম্প্রতি ৮১তম জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথম বড় আন্তর্জাতিক সফর।

বৈঠকে দু'দেশের মধ্যে বিস্তৃত দ্বিপাক্ষিক ও আন্তর্জাতিক ইস্যু নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ নিয়মিত রাজনৈতিক সংলাপ বজায় রাখার আগ্রহ প্রকাশ করে। খলিলুর রহমান বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের অবদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি উল্লেখ করেন যে, সোভিয়েত ইউনিয়ন পাকিস্তানপন্থী প্রস্তাবে ভেটো দিয়ে, বাংলাদেশকে দ্রুত স্বীকৃতি দিয়ে এবং চট্টগ্রাম বন্দর মাইনমুক্তকরণে সহায়তা করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। দু'দেশ ২০২৭ সালে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫৫ বছর পূর্তি উদযাপন করবে।

বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা ছিল আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয়। বাংলাদেশ রাশিয়ান বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য ডিউটি-ফ্রি ও কোটা-ফ্রি প্রবেশাধিকার চেয়েছে। ইউরেশিয়ান ইকোনমিক কমিশন (ইইসি)-এর সঙ্গে ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (এফটিএ) সম্পাদনে রাশিয়ার সমর্থন চাওয়া হয়েছে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্রিকস ও এসসিও-এর পূর্ণ সদস্যপদের জন্য রাশিয়ার সহায়তা কামনা করেছে, যাতে ল্যাভরভ ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন। রূপপুর নিউক্লিয়ার পাওয়ার প্ল্যান্টের প্রথম ইউনিটের জ্বালানি লোডিংয়ের জন্য ধন্যবাদ জানিয়ে দ্বিতীয় ইউনিটের কাজ দ্রুত শেষ করার অনুরোধ জানানো হয়।

শ্রমিক নিয়োগ, মানবসম্পদ চুক্তি, রিডমিশন চুক্তিসহ বিভিন্ন এমওইউ দ্রুত সম্পাদনের উপর জোর দেওয়া হয়। রাশিয়ায় আটকে পড়া বাংলাদেশিদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আশ্বাস পাওয়া গেছে। রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে রাশিয়ার সহায়তা চাওয়া হয়েছে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক ফোরামে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। ল্যাভরভ খলিলুর রহমানকে ইউএনজিএ প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ায় অভিনন্দন জানান।

বৈঠক শেষে উভয় মন্ত্রী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমুখী করার প্রতিশ্রুতি দেন। খলিলুর রহমান ল্যাভরভকে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

.
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
.
--
--