. .
আজিজুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
দৈনিক ফুলতলা প্রতিদিন | অনলাইন
খুলনা, ২১ অক্টোবর: বন্দর সম্প্রসারণ, জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা পর্যালোচনায় আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) খুলনা ও মোংলা সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরকালে সুন্দরবন ও উপকূলীয় এলাকার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রস্তাবিত তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) টার্মিনাল, মোংলা বন্দর এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল-সংশ্লিষ্ট বিষয় পর্যালোচনার কথা রয়েছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালে হেলিকপ্টারে ঢাকা থেকে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। পথে সুন্দরবন, হিরণ পয়েন্ট ও উপকূলীয় এলাকার গুরুত্বপূর্ণ অংশ পর্যবেক্ষণের পর খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করবেন তিনি।
পরে কোস্টগার্ডের সহায়তায় নৌপথে আকরাম পয়েন্ট এলাকার উদ্দেশে যাত্রা করবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল স্থাপনের সম্ভাব্যতা পর্যালোচনার কথা রয়েছে। এরপর তিনি মোংলায় পৌঁছে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে নির্ধারিত সভায় অংশ নেবেন। এ সময় মোংলা বন্দরের জেটি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের সার্বিক অবস্থা পরিদর্শনের পাশাপাশি বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের স্থান ঘুরে দেখার কর্মসূচি রয়েছে।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে হেলিকপ্টারে অবতরণ করে সেখান থেকে নদীপথে পরবর্তী গন্তব্যে যাবেন। তবে দাকোপে তাঁর কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি নেই।
স্থানীয় সংসদ সদস্য আমীর এজাজ খান জানান, এটি প্রধানমন্ত্রীর সরকারি সফর হলেও স্থানীয় মানুষের মধ্যে তাঁকে একনজর দেখার আগ্রহ রয়েছে। সফর সফল করতে প্রশাসনের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো প্রস্তুতি নিয়েছে।
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর সফর ঘিরে খুলনা ও মোংলা অঞ্চলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মধ্যে সমন্বয় করা হচ্ছে বলে প্রশাসনিক সূত্র জানিয়েছে।
আগামী ৫ নভেম্বরও প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফরের কথা রয়েছে। ওই দিন খুলনা জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর দ্বিতীয় আসর উদ্বোধনের কর্মসূচি নির্ধারিত রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, বন্দরকেন্দ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন, জ্বালানি খাতে নতুন উদ্যোগ এবং পরিকল্পিত শিল্পায়ন বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। এ সফরে এসব সম্ভাবনা পর্যালোচনা ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।