. .
রাজধানীতে জামায়াতের জনসভা: ‘জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান দেওয়ার দাবি’
ডেস্ক রিপোর্ট মোঃ সুমন সরদার
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের দ্রুত বিচার এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার দাবিতে রাজধানীতে এক বিশাল জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া বীর সংগ্রামীদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টি-সংলগ্ন এলাকায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের মিরপুর জোনের উদ্যোগে এই জনসভার আয়োজন করা হয়। দুপুর থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন থানা ও ওয়ার্ড থেকে সংগঠনের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও স্লোগানে মুখরিত করে জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। অল্প সময়ের মধ্যেই পুরো এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি বলেন, বৈষম্যমুক্ত, ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা এবং খুন, গুম, হত্যা, সন্ত্রাস, নৈরাজ্য ও আয়নাঘরের মতো বিভীষিকা থেকে জাতিকে মুক্ত করতেই জুলাই আন্দোলন হয়েছিল। এই গণঅভ্যুত্থানে যারা জীবন দিয়েছেন ও আত্মত্যাগ করেছেন, সেই জুলাই যোদ্ধাদের সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মানে ভূষিত করা রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।
জামায়াত আমীর আরও বলেন, গণমানুষের দীর্ঘদিনের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে জনগণের যে আকাঙ্ক্ষা প্রতিফলিত হয়েছে, তা বাস্তবায়নে সরকারকে অবিলম্বে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিতে হবে। জুলাই আন্দোলনে ছাত্র-জনতার ওপর চালানো নৃশংস গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের সাথে জড়িত প্রতিটি অপরাধীকে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সংগঠনটির ঢাকা মহানগরী উত্তরের দায়িত্বশীল সূত্রে জানানো হয়, এই সমাবেশ থেকে জুলাই গণহত্যার বিচার, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, আহত ও শহীদ পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন এবং আয়নাঘরের মতো নির্যাতন ব্যবস্থার চিরতরে অবসানের দাবি তোলা হয়েছে।
ঢাকা মহানগরী উত্তরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সভাপতিত্বে ও সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এ জনসভায় দলটির কেন্দ্রীয় ও মহানগরী পর্যায়ের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করে দেশে টেকসই গণতন্ত্র, সুশাসন এবং ইনসাফভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা কায়েমের অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।