. .
ঢাকা | ৩০ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস আজ। গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সংহতি জানানো, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনার দাবির মধ্য দিয়ে বিশ্বব্যাপী দিবসটি পালিত হচ্ছে।
দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশেও গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের অধিকার, নিরাপত্তা এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধ, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি নিশ্চিত এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি উঠেছে।
জোরপূর্বক গুম একটি গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন। কোনো ব্যক্তিকে তাঁর পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ শুধু ওই ব্যক্তির জীবন ও স্বাধীনতার ওপরই প্রভাব ফেলে না; তাঁর পরিবারকেও দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তা ও উৎকণ্ঠার মধ্যে রাখে। অনেক ক্ষেত্রে নিখোঁজ ব্যক্তির অবস্থান ও পরিণতি সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না পাওয়ায় পরিবারের দুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হয়।
বাংলাদেশে বিভিন্ন সময়ে গুমের অভিযোগ নিয়ে দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠন ও বিভিন্ন মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এসব অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রকৃত ঘটনা নির্ধারণ, নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান এবং দায়ীদের শনাক্ত করতে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও কার্যকর তদন্তের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
গুমের অভিযোগ তদন্তে গঠিত কমিশনের কার্যক্রমও এ ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কমিশনের মাধ্যমে অভিযোগগুলো পর্যালোচনা, নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তদন্তের স্বচ্ছতা ও স্বাধীনতা বজায় রাখার বিষয়টিকেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক আইনে জোরপূর্বক গুমকে অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির ৭(২)(i) অনুচ্ছেদে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ব্যাপক বা পদ্ধতিগতভাবে বেসামরিক জনগোষ্ঠীর ওপর আক্রমণের অংশ হিসেবে সংঘটিত জোরপূর্বক গুমকে মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
গুম প্রতিরোধে শুধু বিচারের উদ্যোগই যথেষ্ট নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি, আইনের শাসন, স্বাধীন তদন্তব্যবস্থা এবং নাগরিকের মৌলিক অধিকার সুরক্ষায় কার্যকর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন।
একই সঙ্গে রাজনৈতিক মত বা পরিচয় নির্বিশেষে প্রত্যেক নাগরিকের নিরাপত্তা ও আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম দায়িত্ব। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অপব্যবহার করে ভিন্নমত দমন কিংবা কোনো ব্যক্তিকে আইনবহির্ভূতভাবে নিখোঁজ করার সুযোগ যাতে আর তৈরি না হয়, সে জন্য শক্তিশালী আইন ও জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের এই দিনে তাই গুমের শিকার সব ব্যক্তির সন্ধান, তাঁদের পরিবারের ন্যায়বিচার নিশ্চিত এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন প্রতিরোধে কার্যকর রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।