মামলা বাণিজ্য, চেক জালিয়াতি, চুরি মামলা, জমি দখল সহ নানা অপরাধের মাস্টারমাইন্ড সৈয়দ কিসমত আলী
সুমন সরদার, ফুলতলা প্রতিদিন ।
এমন কোন অপরাধ নেই। যেখানে সৈয়দ কিসমত আলীর বিচরণ নেই। বলছি খুলনা মহানগরীর ৩৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সেক্রেটারী সৈয়দ কিসমত আলীর কথা। বিগত আওয়ামীলীগ সরকার থাকাকালীণ খানজাহান আলী থানায় রুটিণ মাফিক মামলা বাণিজ্য অর্থাৎ নিজেই ধরিয়ে নিজেই ছাড়িয়ে নেওয়ার কাজ করতেন ।
এছাড়া সৈয়দ কিসমত আলীর বিরুদ্ধে চেক জালিয়াতি সহ চুরি মামলা ও নাশকতার অপরাধের মামলা রয়েছে। অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, হিন্দুদের জমি দখল করে তৎকালীণ সময়ে আফিলগেট বাজারের বাস স্টান্ড গড়ে তোলেন । এছাড়া তৎকালীণ খানজাহান আলী থানায় কর্মরত ওসিদের সাথে কিসমতের ছিলো গভীর দেনা পাওনার সখ্যতা। ফলে হাজার অপরাধ করলেও আওয়ামীলীগের সময় পার পেয়ে যেতেন এই ভূঁইফোঁর নেতা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রথম জীবনে সৈয়দ কিসমত আলী জাতীয় পার্টির রাজনীতিতে পা দেন। পরবর্তীতে জামায়াত ইসলামে ঢোকার চেষ্টা করে ব্যার্থ হোন। এর পর আওয়ামীলীগ ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর সরকার গঠন করলে সৈয়দ কিসমত আলী গুটি গুটি পায়ে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। এরপর মোটা অংকের অর্থের বিনিময় তৎকালীণ প্রবীণ আওয়ামীলীগ নেতা গোলাম রহমান মিনাকে টপকিয়ে ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সেক্রেটারীর পদ বাগিয়ে নেন এই ধ্রুতর কিসমত। কথায় বলে ভাগ্যের চাকা খুলতে শুরু করলে আটকানো যায় না। এর পরে সৈয়দ কিসমত আলী আফিলগেট এলাকায় জমি দখল ও মামলা বাণিজ্য করে কোটিপতি বনে যান। নিজস্ব টাকায় ৩৬নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগ অফিসের জন্য ভবন তৈরি করে দেন।
পরবর্তীতে যদিও আওয়ামীলীগের পতন হলে আওয়ামীলীগ অফিস বিলুপ্তি করে নিজেই এক ফার্নিচার ব্যবসায়িদের কাছে আওয়ামীলীগ অফিস ভাড়া দেন। চতুর এই রাজনীতিবীদ শুধু আওয়ামীলীগ অফিস ভাড়া দিয়ে ক্ষ্যান্ত হয়নি। সরকারি জায়গা দখল করে দোকান ভাড়া দিয়ে আসছেন।
এছাড়া রেলওয়ের জমি দখল দিয়ে বিভিন্ন ব্যাক্তির কাছে মোটা অংকের অর্থের বিনিময় সরকারি জমি বিক্রি করেছে। বিষয়টি নিয়ে সর্বমহলে জানা জানি হলেও কোন এক অজানা কারণে চুপ ছিলো সকলে। সৈয়দ কিসমত আলী বর্তমানে আওয়ামীলীগ সরকার পতন হওয়ার পরে আবারও একটি রাজনৈতিক দলে নাম লেখিয়েছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়।
সেই দলীয় প্রভাবে আবারও মাথা চড়া দিয়ে উঠেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। খানজাহান আলী থানা এলাকায় এক নারী নেত্রীর সাথে কিসমত আলীর রয়েছে সু-সম্পর্ক। ওই নেত্রী বর্তমান সৈয়দ কিসমত আলীকে সুশীতল ছাঁয়াতে আগলে রেখেছে বলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় নেতা জানান।
এ বিষয় সৈয়দ কিসমত আলীর মুঠোফোনে কল করে তাঁর মন্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও কিসমতের ব্যবহারিত মোবাইল নাম্বারটি বন্ধ পাওয়া যায়।
আগামী প্রতিবেদনে সৈয়দ কিসমত আলীর কক্সবাজার ভ্রমণের সাতকাহন থাকছে...
এ জাতীয় আরো খবর..