. .
সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় একীভূতকরণের ওপর গোলটেবিল আলোচনা সভা
খুলনা, ২৫ কার্তিক (১০ নভেম্বর) :
জলবায়ু প্ররোচিত অভিবাসী এবং অভ্যন্তরীণ বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যা, সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় একীভূতকরণের ওপর গোলটেবিল আলোচনা সভা আজ (সোমবার) সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার বিভাগীয় কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ ফিরোজ শাহ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি বলেন, বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীকে সামাজিক সুরক্ষার আওতায় আনতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চল থেকে মানুষ যেন মাইগ্রেশন না হয় সেদিকে সকলের নজর দিতে হবে এবং পরিকল্পনা মাফিক কাজ করতে হবে। কারিতাস প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ছিন্নমূল মানুষের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, নগরায়নের ক্ষেত্রে উত্তম পরিকল্পনা করা প্রয়োজন। দুর্যোগ প্রবণ এলাকা থেকে কি পরিমান জনসংখ্যা মাইগ্রেশন হচ্ছে তাদের ডাটা তৈরি করতে হবে। নাগরিক সুবিধা যেমন কাজের ক্ষেত্র তৈরি, যোগাযোগ, স্কুল-কলেজ থাকে তা হলে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে মানুষ মাইগ্রেশন হবে না।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তৃতা করেন খুলনা সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) শরীফ আসিফ রহমান। এতে স্বাগত বক্তৃতা করেন কারিতাসের আঞ্চলিক পরিচালক আলবিনো নাথ। গোলটেবিল আলোচনা সভায় কীনোট পেপার উপস্থাপন করেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ^বিদ্যালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ ইসমাইল হোসেন। প্রকল্প সম্পর্কে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন কারিতাসের কর্মসূচি কর্মকর্তা ড. সুমন কুমার মালাকার। অনুষ্ঠানে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল করিম, প্রেসক্লাবের আহবায়ক এনামুল হক, ইউনিফেস এর চিফ মোঃ কাউসার হোসেন, কারিতাসের ডিআরআর সিসিএ এর প্রকল্প সমন্বয়কারী পবিত্র কুমার মন্ডল, মিল কোর্ডিনেটর মোঃ ইব্রাহিম হোসেন, অ্যাডভোকেসি কোর্ডিনেটর কাকলী হালদার প্রমুখ বক্তৃতা করেন।
উল্লেখ্য, খুলনা সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ৯, ২১, ২২ ও ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে এবং সাতক্ষীরা জেলার উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন নামে একটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। কারিতাস জার্মানি এবং বিএমজেড এতে অর্থায়নে সহযোগিতা করছে। এ প্রকল্পটি জানুয়ারি ২০২৬ সালে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।
সভায় বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, এনজিও প্রতিনিধি, কেসিসির চারটি ওয়ার্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী, প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে যুক্ত এসডিএনসি কমিটির সদস্য ও ক্ষতিগ্রস্থ বাস্তুচ্যুত জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা খুলনা কারিতাস এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
তথ্যবিবরণী নম্বর-১২৯
শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা
সাতক্ষীরা, ২৫ কার্তিক (১০ নভেম্বর) :
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডাঃ বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার গতকাল (রবিবার) সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করেন। সুন্দরবন সংলগ্ন প্রত্যন্ত ও দুর্গম অঞ্চলে এই বিদ্যালয়গুলো অবস্থিত। বিদ্যালয়গুলো হচ্ছে পশ্চিম শ্রীফলকাটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মুন্সিগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বুড়ি দাতিনাখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বুড়ি গোয়ালিনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত প্রত্যন্ত অঞ্চলে অবস্থিত এসব প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার মান দেখে উপদেষ্টা সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিদর্শনকালে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষক ও অভিভাবকদের সাথে কথা বলেন। এসময় তিনি এ অঞ্চলের শিক্ষার মান উন্নয়নে বিভিন্ন পরামর্শ প্রদান করেন। এছাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মানোন্নয়নে অভিভাবকদের আরো সচেতন হওয়ার আহবান জানান।
শিক্ষক স্বল্পতার কারণে যেন বিদ্যালয়ের পাঠদান ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য যেসকল বিদ্যালয়ে শিক্ষকের ঘাটতি রয়েছে তা দ্রুত পূরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপদেষ্টা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম গুলো দ্রুত সম্পন্ন করতে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতার সাথে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
পরিদর্শনকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক মিরাজুল ইসলাম উকিল, খুলনা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মোঃ শফিকুল ইসলাম, শ্যামনগরের উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিদারুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।