. .
.

ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচল ও নদী দূষণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো নির্দেশনা

রিপোর্টারের নাম: ফুলতলা প্রতিদিন
  • সংবাদ প্রকাশের তারিখ : Aug 3, 2026 ইং
  • ৭৮১ বার
ছবির ক্যাপশন: File photo

ঢাকার চারপাশের নৌপথ সচল ও নদী দূষণ প্রতিরোধে প্রধানমন্ত্রীর জোরালো নির্দেশনা

​ডেস্ক রিপোর্ট মোঃ সুমন সরদার 

রাজধানী ঢাকার চারপাশের ঐতিহাসিক নদীগুলোকে পুনরায় প্রাণবন্ত করে তুলতে এবং নদীবেষ্টিত বৃত্তাকার নৌপথগুলোকে পূর্ণাঙ্গভাবে সচল করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল কর্তৃপক্ষকে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান। একইসাথে ঢাকার চারপাশের নদীগুলোর মারাত্মক দূষণ প্রতিরোধ করা, নগরীর পুরো ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও উন্নয়ন নিশ্চিত করা এবং নদীসমূহের স্বাভাবিক নাব্যতা ও স্বচ্ছন্দ পানিপ্রবাহ বজায় রাখার জন্য অবিলম্বে সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের তাগিদ দিয়েছেন তিনি।

​সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এক উচ্চপর্যায়ের পর্যালোচনা ও নীতি নির্ধারণী বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা প্রদান করেন। বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন যে, বুড়িগঙ্গা, তুরাগ, বালু এবং শীতলক্ষ্যা নদী কেবল রাজধানীর পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং মেগাসিটি ঢাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থার টেকসই ও আধুনিক রূপান্তরের ক্ষেত্রেও এদের সম্ভাবনা অপরিসীম। তিনি ঢাকার ঐতিহ্যবাহী বৃত্তাকার নৌপথকে (Circular Waterway) আধুনিক ওয়াটার ট্যাক্সি ও অন্যান্য যাত্রীবাহী নৌযান চলাচলের পূর্ণাঙ্গ উপযোগী করে দ্রুত সচল করার নির্দেশ দেন। এই সুপরিকল্পিত নৌপথ পুরোদমে চালু হলে রাজধানীর অভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে বিদ্যমান তীব্র যানজটের ভোগান্তি ও চাপ অনেকটাই কমে আসবে এবং নগরবাসীর জন্য একটি আধুনিক, পরিবেশবান্ধব, সাশ্রয়ী ও নিরাপদ বিকল্প যাতায়াত ব্যবস্থার ক্ষেত্র উন্মোচিত হবে।

​নৌপথ পুনরুজ্জীবনের পাশাপাশি নদী দূষণ বন্ধে শূন্য সহনশীলতা (Zero Tolerance) নীতি গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়, শিল্পকারখানার রাসায়নিক বর্জ্য এবং পয়ঃবর্জ্য সরাসরি নদীতে ফেলা অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে। শিল্পকারখানাগুলোতে ইটিপির (Effluent Treatment Plant) বাধ্যতামূলক ব্যবহার নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। একইসঙ্গে নদীর পাড়ের সব ধরনের অবৈধ দখলদারদের দ্রুত উচ্ছেদ করা, নদীর সীমানা পুনর্নির্ধারণ, তীরঘেঁষে সবুজ বেষ্টনী গড়ে তোলা এবং নাব্যতা ধরে রাখতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিয়মিত ড্রেজিং পরিচালনা করার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

​তাছাড়া, বর্ষা মৌসুমে ঢাকার দীর্ঘদিনের কৃত্রিম জলাবদ্ধতা নিরসনে নগরীর খাল ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার ও আধুনিকায়নের ওপর জোর দেন প্রধানমন্ত্রী। ড্রেন ও ড্রেনেজ ক্যানেলগুলোর বর্জ্য প্রতিনিয়ত পরিষ্কার করে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখার কড়া নির্দেশ দেওয়া হয়।

​এই সমন্বিত মহাপরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), ঢাকা ওয়াসা, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন, পরিবেশ অধিদপ্তর এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সকল সংস্থাকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত ঢাকার নগর জীবনে নতুন দিগন্ত সূচনা করবে বলে আশা করা হচ্ছে।

​(সূত্র: সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ বার্তা — https://www.facebook.com/share/p/1ECQDjXVJ4/)

.
কমেন্ট বক্স

নিউজটি শেয়ার করুন..

এ জাতীয় আরো খবর..
.
--
--