প্রিন্ট এর তারিখঃ Sep 26, 2026 ইং || প্রকাশের তারিখঃ Apr 5, 2026 ইং
যশোর সহ ১৮ জেলায় আজ থেকে শুরু হলো হামের টিকা দেওয়া।

যশোর সহ ১৮ জেলায় আজ থেকে শুরু হলো হামের টিকা দেওয়া।
সুমন ঘোষ
যশোর
যশোর শহ ১৮টি জেলার ৩০টি উপজেলায় আজ রবিবার থেকে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে। এই বিশেষ উদ্যোগে ৯ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী শিশুদের হাম-রুবেলা টিকার পাশাপাশি অতিরিক্ত সুরক্ষা হিসেবে ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুলও খাওয়ানো হবে।
যশোর স্বাস্থ্য বিভাগ জানান, সকাল ৯টায় যশোর সদর উপজেলার নওয়াপাড়া ইউনিয়নের বিরামপুর কমিউনিটি ক্লিনিকে এই কর্মসূচির আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হবে। এরপর সকাল ১০টায় যশোর পৌরসভা এলাকায় টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। খুলনা বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডাক্তার মোঃ মুজিবুর রহমান এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন। প্রথম দিন নওয়াপাড়া ইউনিয়নের ৬টি কেন্দ্র ও যশোর পৌর এলাকায় সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বিরতিহীনভাবে টিকাদান কার্যক্রম চলবে।
যশোরে এখন পর্যন্ত ১৬৩ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী চিহ্নিত হয়েছে, যার মধ্যে ২৬জনের শরীরে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, জেলায় এখন পর্যন্ত হামে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি। এই কর্মসূচির আওতায় যশোরে প্রায় ৬১ হাজার শিশুকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্র জানান গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ জন মারা গেছেন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামে নিশ্চিতভাবে ১৫ জন এবং উপসর্গ নিয়ে ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহী বিভাগে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি (৫১ জন)। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৬২ জন হামে আক্রান্ত হয়েছেন এবং বর্তমানে ৪ হাজার ৬২৮ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানয় সংক্রমণের তীব্রতা বিবেচনায় ১৮টি জেলাকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই তালিকায় যশোর সদর ছাড়াও রয়েছে বরগুনা সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, চাঁদপুরের হাইমচর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, গাজীপুর সদর সহ আরও বেশ কিছু উপজেলা।
যশোরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মোঃমাসুদ রানা জানায় সাধারণত ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে দুই ডোজ টিকা দেওয়া হয়। তবে যারা আগে নিতে পারেনি, তারা এখন ২৮ দিনের ব্যবধানে দুই ডোজ নিতে পারবে। শিশুর শরীরে জ্বর বা র্যাশ (ফুসকুড়ি) দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে এবং সংক্রমণ রোধে অন্তত ৫ দিন শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা রাখতে হবে।একটু নিয়ম মানলেই আমরা এই বিপদ থেকে মুক্ত হতে পারব।
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ দৈনিক ফুলতলা প্রতিদিন