
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া যুদ্ধবিরতি ও হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটনের দাবি, আলোচনায় ফেরার আগেই তেহরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদে প্রবেশাধিকার এবং মার্কিন নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার মতো একাধিক শর্ত দিয়েছিল।
মার্কিন জাতিসংঘ দূত মাইক ওয়াল্টজ জানিয়েছেন, ইরান আলোচনার আগে এসব সুবিধা চেয়েছিল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওয়াশিংটনের কাছে প্রস্তাবটি গ্রহণযোগ্য মনে হয়নি। তিনি আরও বলেন, শেষ পর্যন্ত ইরানের সঙ্গে কোনো ধরনের সমঝোতায় পৌঁছাতে হবে, তবে ট্রাম্প প্রশাসন সব বিকল্প খোলা রাখছে।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা হয়। এসব আলোচনায় ইরান জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এবং আঞ্চলিক যুদ্ধবিরতি পুনর্বহাল করলে তারা সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দিয়ে পারমাণবিক আলোচনা পুনরায় শুরু করতে প্রস্তুত। (Axios)
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। ফলে এটি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়টি চলমান সংকটের কূটনৈতিক আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য, ইরান আলোচনার আগে একাধিক ছাড় দাবি করেছে। ওয়াল্টজের ভাষ্য অনুযায়ী, তেহরান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং জব্দ করা কোটি কোটি ডলারের সম্পদে প্রবেশাধিকারের পাশাপাশি নৌ-অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। যুক্তরাষ্ট্র মনে করছে, এসব দাবি আগে পূরণ করে এরপর আলোচনা শুরু করার প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যাখ্যার সঙ্গে একমত নন। তিনি বলেছেন, ইরান কূটনৈতিক সমাধানের পথ খোলা রেখেছে এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট প্রস্তাব প্রত্যাখ্যানের কথা প্রকাশ্যে বললেও তেহরান এখনো মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।
প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেও ট্রাম্প জানিয়েছেন, চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা হতে পারে। আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীরাও দুই পক্ষের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
ট্রাম্প বলেছেন, ইরান একটি চুক্তি করতে চাইছে, তবে সেটি তাঁর প্রত্যাশিত চুক্তি নয়। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে আবারও সামরিক অভিযান চালানোর বিষয়টি তিনি বিবেচনা করছেন বলেও জানিয়েছেন।
এদিকে আরাগচি জানিয়েছেন, ইরান যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার জন্যও প্রস্তুত, তবে কূটনীতির সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি। ফলে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের মধ্যে নতুন করে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয় কি না, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।