
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় আর কোনো আস্থা নেই বলে জানিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তার অভিযোগ, আগের দফার আলোচনার পরও ইরানের ওপর হামলা ও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সাক্ষাৎকারটি প্রচার করা হয়।
পেজেশকিয়ান বলেন, আমেরিকার ওপর আমাদের কোনো আস্থা নেই। তাদের সঙ্গে কীভাবে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব, সেটিও আমরা জানি না।
চলতি সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে যুক্তরাষ্ট্র সফর করেন পেজেশকিয়ান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেখানে তারা যুদ্ধ বন্ধ এবং সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি প্রস্তাব দেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রস্তাবের প্রাথমিক ধাপগুলো সম্পন্ন করতে চার থেকে পাঁচ দিন সময় লাগবে। ষষ্ঠ দিনে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে এবং সপ্তম দিনে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ অন্যান্য বিষয়ে চূড়ান্ত আলোচনার শুরু হবে।
প্রস্তাব অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইরান কয়েকটি পদক্ষেপ চেয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ তুলে নেওয়া;
ইরানের তেল বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার;
ইরানের আটকে থাকা প্রায় ১২ বিলিয়ন ডলার সম্পদ ছাড় করা;
লেবানন ও ইয়েমেনসহ অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা।
এর বিনিময়ে সাত দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে ইরান।
পেজেশকিয়ান জানান, কাতার ও পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে ইরানের বার্তা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পৌঁছে দিচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমান উদ্যোগের ভিত্তি গত জুনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে হওয়া একটি সমঝোতা স্মারক (MoU)। ওই সমঝোতার মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রকে প্রথমে এ বিষয়ে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে হবে।
এদিকে, ২৬ সেপ্টেম্বর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে আল জাজিরা জানিয়েছে।