
অনলাইন ডেস্ক:
সন্তানকে সম্পত্তি হস্তান্তর বা লিখে দেওয়ার পরও পিতা-মাতার জীবদ্দশায় সেই সম্পত্তির পূর্ণ ভোগ-দখলের অধিকার তাঁদের নিজেদের হাতেই রাখার বিধান যুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। এই লক্ষ্যে ১৮৮২ সালের ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’ (Transfer of Property Act) সংশোধনের একটি বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। প্রস্তাবিত এই গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কার বাস্তবায়িত হলে দেশের দেওয়ানি আদালতগুলোতে বছরের পর বছর ধরে ঝুলে থাকা সিভিল মামলার সংখ্যা অনেকটাই কমে আসবে, যার বড় একটি অংশ মূলত সম্পত্তির বণ্টন ও হিসাব-নিকাশ নিয়ে তৈরি হয়।
বর্তমানে প্রচলিত মুসলিম আইনে ‘হেবা’ বা ‘ওসিয়তনামা’ এবং হিন্দু আইনে ‘উইল’-এর মাধ্যমে সন্তানকে সম্পত্তি দেওয়া যায়। কিন্তু হেবা বা সাধারণ দানপত্র রেজিস্ট্রি করার সাথে সাথেই বাবা-মায়ের হাত থেকে সম্পত্তির চূড়ান্ত নিয়ন্ত্রণ চলে যায়। এর ফলে পরবর্তী সময়ে সন্তান যদি দেখাশোনা বা ভরণপোষণ না করে, তবে বাবা-মা নিজেদের সম্পত্তির ওপর অধিকার হারিয়ে নিঃস্ব ও চরম অসহায় হয়ে পড়েন।
এই সামাজিক সংকট নিরসনে ‘সম্পত্তি হস্তান্তর আইন’-এ হেবার পাশাপাশি সাধারণ দানপত্রের বাইরে গিয়ে ১৯৬৩ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ের আলোকে ‘ইউসুফ্রাক্ট রাইট’ (Usufruct Right) বা ‘জীবনস্বত্ব’-এর আইনি বিধান স্পষ্ট করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনী অনুযায়ী, বাবা-মা জীবিত থাকা পর্যন্ত সম্পত্তি ভোগ-দখল ও তা থেকে আয়-রোজগারের পূর্ণ অধিকার নিজেদের কাছে রেখেই সন্তানদের সম্পত্তি লিখে দিতে পারবেন। ফলে বৃদ্ধ বয়সে বাবা-মায়ের আবাসন ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে।
সংবাদ সূত্র: ফেসবুক পোস্ট / সোশ্যাল মিডিয়া সংবাদ সূত্র
(শব্দ সংখ্যা: প্রায় ৩৬০ শব্দ)